18 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫ কর্মীর বাসস্থান বরাদ্দ বাতিল, প্রতিবাদে পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৫ কর্মীর বাসস্থান বরাদ্দ বাতিল, প্রতিবাদে পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) আজ ১৫ জন কর্মীর বাসস্থান বরাদ্দ বাতিলের নির্দেশ জারি করেছে। এই কর্মীরা নতুন মোরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (NCT) কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের DP World‑কে লিজে দিতে চাওয়া পরিকল্পনার বিরোধে প্রতিবাদ করছিলেন। আদেশটি CPA-র পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের স্বাক্ষরে প্রকাশিত এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের তা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

অফিসিয়াল আদেশে বলা হয়েছে, ২ ফেব্রুয়ারি জনসাধারণের স্বার্থে ১৫ কর্মীকে মংলা ও পায়রা বন্দরへ স্থানান্তর করা হয়েছিল। তাদেরকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে মুক্ত করে দুই কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানান্তরিত কর্মীরা এখনও নতুন দায়িত্বে যোগ দেননি, ফলে তাদের বাসস্থান সুবিধা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাতিলকৃত বাসস্থান সুবিধা পূর্বে CPA-র পক্ষ থেকে কর্মীদের স্বীকৃত ছিল, যা চট্টগ্রাম বন্দর এলাকার কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাসস্থানের নিরাপত্তা প্রদান করত। এই সুবিধার হঠাৎ বাতিল কর্মীদের জীবনের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং কর্মসংস্থান সম্পর্কিত অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

বাতিলকৃত ১৫ কর্মীর মধ্যে মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির এবং মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছিলেন। বাকি কর্মীরা মোহাম্মদ ফারিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, মোহাম্মদ জাহিরুল ইসলাম, খানদকার মাসুদুজ্জামান, মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির, মোহাম্মদ শাকিল রাইহান, মানিক মঝি, মোহাম্মদ শামসু মিয়া, মোহাম্মদ লিয়াকত আলি, আমিনুর রাসুল বুলবুল এবং মোহাম্মদ রাব্বানি অন্তর্ভুক্ত।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ৩১ জানুয়ারি থেকে আট ঘণ্টার কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে তিন দিন অব্যাহত রাখে এবং এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালীন কর্মবিরতি চালু করে। তাদের চাহিদা চারটি মূল পয়েন্টে সীমাবদ্ধ ছিল: NCT চুক্তি বাতিল, ১৫ কর্মীর স্থানান্তর আদেশ প্রত্যাহার, এবং সংশ্লিষ্ট নীতি সংশোধন।

৫ ফেব্রুয়ারি শিপিং উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর, উপদেষ্টা কর্মীদের স্থানান্তর আদেশ প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা দিয়ে কাজবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। তবে একই সন্ধ্যায় CPA-র পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি বিরোধী কমিশন (ACC)‑কে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে ১৫ কর্মীর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ তদন্তের অনুরোধ করা হয়।

এই পদক্ষেপের ফলে বন্দর পরিচালনায় অস্থায়ী অশান্তি দেখা দিয়েছে। NCT‑এর লিজ প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে, এবং কর্মীদের প্রতিবাদ ও স্থানান্তর আদেশের বাতিল বাণিজ্যিক পরিবেশে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে DP World‑এর মতো বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে হলে স্থানীয় শ্রমিকদের স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি কর্মীদের প্রতিবাদ দীর্ঘায়িত হয় এবং অতিরিক্ত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে চট্টগ্রাম বন্দর‑এর কন্টেইনার টার্নওভার হার ও লজিস্টিক্স খাতে স্বল্পমেয়াদে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বন্দর পরিচালনা মূল কার্যক্রমে কোনো বড় ধরণের ব্যাঘাতের রিপোর্ট নেই, যা আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর স্বল্পমেয়াদী রুট পরিবর্তনকে বাধা দেবে না।

অবস্থার উন্নয়নকে কেন্দ্র করে, CPA‑র সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপগুলোতে কর্মীদের পুনর্বাসন ও বাসস্থান সমস্যার সমাধান কীভাবে করা হবে তা গুরুত্বপূর্ণ। যদি বাসস্থান সুবিধা পুনরায় প্রদান না করা হয়, তবে কর্মীদের আর্থিক ও সামাজিক চাপ বাড়তে পারে, যা কর্মসংস্থানের স্থিতিশীলতা ও বন্দর কর্মী শক্তির উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

সারসংক্ষেপে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ বন্দর‑সংক্রান্ত শ্রমিক বিরোধের নতুন মোড় নির্দেশ করে। NCT‑এর লিজ চুক্তি ও DP World‑এর অংশগ্রহণের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক ও কৌশলগত দিকগুলোতে এই ঘটনা নজরদারির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে যদি সমন্বিত আলোচনা না হয়, তবে বন্দর‑সংক্রান্ত বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে, যা দেশের বাণিজ্যিক লজিস্টিক্সের সামগ্রিক প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments