18 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলারশিদ খান: আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ঘরে খেলা বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড় গর্ব

রশিদ খান: আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ঘরে খেলা বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড় গর্ব

রশিদ খান, আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান বোলার ও দলের মুখপাত্র, ICC T20 বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রস্তুতি নিয়ে মিডিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে জানান যে দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দলটির জন্য বিশ্বকাপ জয়ের চেয়েও বড় গর্বের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, “আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো আমাদের ঘরে খেলা আমাদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক, যা শুধুমাত্র জয়লাভের চেয়ে বেশি মানে রাখে।” এই মন্তব্যটি আফগানিস্তানের ক্রিকেটের বর্তমান উত্থান ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে।

রশিদ খান আরও ব্যাখ্যা করেন যে ঘরে ঘরে ক্রিকেট খেলা শুধু ফলাফল নয়, এটি দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য সরাসরি অনুপ্রেরণা এবং ভক্তদের সঙ্গে সংযোগের সেতু গড়ে তোলে। তিনি বলেন, “যখন আমরা নিজের মাটিতে খেলি, ভক্তদের চিৎকার, তালি ও সমর্থন সরাসরি আমাদের শোনায়, যা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দেয়।” এই ধরনের পরিবেশ দলকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করে।

সাক্ষাৎকারের সময় রশিদ খান চেন্নাইয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও শেয়ার করেন। তিনি কয়েকবার চেন্নাইতে গিয়েছেন এবং স্থানীয় ভক্তদের সঙ্গে টামিল ভাষায় কিছু কথোপকথন করেছেন, যা তার মানবিক দিককে আরও উন্মুক্ত করেছে। রশিদ খান উল্লেখ করেন, “টামিল ভাষায় কিছু শব্দ ব্যবহার করে ভক্তদের সঙ্গে কথা বলতে পারা আমার জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়।” এই অভিজ্ঞতা তার আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে আরও সমৃদ্ধ করেছে এবং ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে।

প্রায় দুই বছর আগে, আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম জয় অর্জন করে। ঐ ম্যাচের পর দলটি স্টেডিয়ামের চারপাশে ল্যাপ অফ অনার করে, যেখানে প্রায় পূর্ণ স্টেডিয়াম থেকে উল্লাসের ঢেউ বয়ে গিয়েছিল। রশিদ খান এবং তার সহকর্মীরা ভক্তদের তালি ও চিৎকারের মধ্যে নিজেদেরকে গর্বিত অনুভব করেন। এই জয়কে অনেক বিশ্লেষক অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেছেন, যা আফগানিস্তানকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে একটি নতুন স্থান দিয়েছে।

সেই জয়কে দলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করে, যা তাদের শীর্ষ স্তরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বীকৃতি পেতে সহায়তা করেছে। রশিদ খান জোর দিয়ে বলেন, “পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেই জয় আমাদের আত্মবিশ্বাসকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে এই ধরনের জয় দলকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বেশি সুযোগ পেতে সাহায্য করবে।

রশিদ খান আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো ঘরে খেলা হলে ভক্তদের সরাসরি সমর্থন পাওয়া যায়, যা দলের মনোবলকে আরও শক্তিশালী করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই অভিজ্ঞতা দলকে টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে সহায়তা করবে এবং ঘরে খেলা হলে মাঠের শর্ত, উচ্চতা ও আবহাওয়া সম্পর্কে জানার সুবিধা থাকবে। রশিদ খান বলেন, “আমাদের ঘরে খেলা মানে আমরা পরিচিত পিচে খেলতে পারি, যা আমাদের কৌশলকে আরও কার্যকর করে তুলবে।”

আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল বর্তমানে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং শীঘ্রই প্রথম ম্যাচে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ডি-তে দলটি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুখোমুখি হবে, যা একটি চ্যালেঞ্জিং প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত। রশিদ খান এবং কোচিং স্টাফ দলকে ঘরে খেলার সুবিধা ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করার লক্ষ্য রাখছেন। এছাড়া, দলটি ভৌগোলিক সুবিধা, যেমন উচ্চতা ও শীতল আবহাওয়া, ব্যবহার করে দ্রুত গতি ও বোলিং কৌশলকে উন্নত করতে চায়।

রশিদ খান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উন্নয়নে আফগানিস্তানের ভূমিকা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট দেশীয় মাটিতে আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা ঘরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করতে পারি, তা আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হবে এবং দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।” তার এই দৃষ্টিভঙ্গি আফগানিস্তানের ক্রিকেট প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দেশের ক্রিকেটকে বিশ্ব মানদণ্ডে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Cricbuzz
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments