সিভিল এভিয়েশন ও ট্যুরিজম উপদেষ্টা শাকিব বশীর (Sk Bashir Uddin) রবিবার নিজ মন্ত্রণালয়ের প্রেস কনফারেন্সে দ্য ডেইলি স্টারকে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্রের স্বার্থে কাজ করার পরেও ভুল তথ্যের শিকার হয়েছেন। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন বলে জানিয়ে দেন।
প্রেস কনফারেন্সে মন্ত্রণালয়ের সেক্রেটারিসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা বশীর তার দুইটি পদকে একসঙ্গে পালন করা কোনো আইনি বাধা নেই বলে জোর দেন। তিনি উপস্থিত সকলকে তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট করতে চান।
বশীর বলেন, তিনি জুট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং একই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম জুট ব্যবসায়ীরূপে কাজ করছেন, ফলে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে। তবে তিনি যুক্তি দেন যে, জুট ব্যবসায়ীরা নিজে থেকেই এই বিষয়টি যাচাই করে নেবে। তিনি সকল জুট ব্যবসায়ীকে প্রশ্ন করার আহ্বান জানান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইতিহাসে ২২ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা, যার মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীও অন্তর্ভুক্ত, পূর্বে এই সংস্থার শীর্ষে ছিলেন। বশীর এই তথ্য তুলে ধরে বলেন, একাধিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা একই পদে ছিলেন, তাই তার বর্তমান অবস্থানকে অস্বাভাবিক বলা যুক্তিযুক্ত নয়।
দ্বৈত পদবীকে অনুপযুক্ত বলে সমালোচনা করা হয়েও তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আইন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না; নৈতিকতা ও মানবিক দৃষ্টিকোণও প্রয়োজন। “আপনি ঘরকে আইন দিয়ে পরিচালনা করতে পারবেন না, পরিবারকে আইন দিয়ে চালাতে পারবেন না” বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় তিনি চেয়ারম্যানের পদে অব্যাহত রয়েছেন। তার মেয়াদে বিমান টিকিটের দাম অর্ধেকের বেশি কমে যাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই হ্রাসের ফলে দেশের বাইরে টাকা রপ্তানি কমে গিয়ে অর্থনৈতিক সঞ্চয় বৃদ্ধি পেয়েছে।
বশীর জানান, উচ্চ টিকিট মূল্যের কারণে পূর্বে দেশের থেকে প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৭০,০০০ কোটি টাকা বহির্গমন হচ্ছিল। এখন এই প্রবাহ কমে যাওয়ায় যারা এই থেকে লাভ পেয়েছিলেন তারা অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। তিনি এই অসন্তোষকে নিজের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মিডিয়ায় তার বিরুদ্ধে “নেপোটিজম” এবং “লর্ড অফ দ্য উইংস” (Lord of the Wings) নামে অপমানজনক উপাধি ব্যবহার করা হয়েছে। বশীর বলেন, তার হেলিকপ্টারগুলোর কোনো ডানা নেই, তবু তাকে এভাবে সম্বোধন করা অযৌক্তিক। তিনি এই ধরনের আক্রমণকে তার কাজের প্রতি আঘাত হিসেবে দেখেন।
প্রশ্ন করা হয়, কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পত্র না পাঠিয়ে সরাসরি সংবাদপত্রকে অভিযুক্ত করা ঠিক হবে কিনা। বশীর উত্তর দেন, তিনি এখনই একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ পত্র প্রস্তুত করছেন। তিনি এ বিষয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করবেন বলে নিশ্চিত করেন।
নেপোটিজমের অভিযোগের প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী উদ্যোগে মোট ৩৯ জনকে বিদেশে ভ্রমণ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে তার পরিবারের নিকটের কেউও অন্তর্ভুক্ত। এই তথ্যকে তিনি তার ন্যায়পরায়ণতা প্রমাণের একটি দিক হিসেবে উপস্থাপন করেন।
দ্য ডেইলি স্টার ৬ ফেব্রুয়ারি “Lord of the Wings” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, যেখানে শাকিব বশীরের উভয় পদে থাকা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। এই প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু বশীরের মতে গুজবের ভিত্তিতে রচিত। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকাশনা রোধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



