১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রবিবার বিকেলে মিরপুর‑১০ সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক বৃহৎ পথসভা পরিচালনা করেন। তিনি নির্বাচনের দিনকে কেবল ভোটের দিন নয়, দেশ পুনর্গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।
সেই অনুষ্ঠানে ঢাকা‑১৫ আসনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে পথসভা আয়োজন করা হয়। একই সময়ে জামায়াত-এ-ইসলামির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন, যা দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দেয়।
তারেক রহমানের বক্তৃতা ইসিবি চত্বর থেকে শুরু হওয়া পূর্ববর্তী র্যালির সঙ্গে যুক্ত, যেখানে তিনি ঢাকা‑১৭ আসনের নিজের নির্বাচনী এলাকা থেকে সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর পল্লবীতে ঢাকা‑১৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী আমিনুল হকের সমর্থনে আরেকটি বৃহৎ সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনি আবারও ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখেন।
বিএনপি নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর মূল বিষয়গুলো তিনি সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। নারী ও মা‑বোনদের জন্য বিশেষ নীতি, ছাত্র সমাজের চাহিদা, বেকারত্বের সমাধান এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যাপক প্রসার—এই চারটি ক্ষেত্রকে তিনি অগ্রাধিকার দেন।
নারী ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হওয়ায় বিশেষ মনোযোগের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশের নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, যার ফলে এখন বাংলাদেশের মেয়েরা প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হিসেবে তিনি বলেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়াতে প্রতিটি গৃহিণীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারী সহায়তা সরাসরি দরজায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি হিসেবে তিনি প্রতিটি জেলার অন্তত একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের কথা জানান। এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিক্ষা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে যুবকদের স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা এবং বিদেশে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে তিনি জনগণের দরজায় সেবা পৌঁছানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সরকারী স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ককে সম্প্রসারণ করে গ্রামীণ ও নগর এলাকায় মৌলিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে জামায়াত-এ-ইসলামি তারেক রহমানের বক্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখে, তাদের প্রার্থী শফিকুর রহমানের দলও দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উভয় দলই ভোটারদের কাছে নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচি উপস্থাপন করে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করবে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শুধুমাত্র একদিনের ভোটদান নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, যেন তারা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। ফলাফল প্রকাশের পর সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যেখানে প্রতিটি দলের নীতি বাস্তবায়নের ক্ষমতা পরীক্ষা হবে।



