20 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামোবাইল আর্থিক সেবায় ১,০০০ টাকার সীমা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ – নির্বাচনকালীন বিশেষ...

মোবাইল আর্থিক সেবায় ১,০০০ টাকার সীমা, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বন্ধ – নির্বাচনকালীন বিশেষ নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নির্দেশে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কালীন মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ব্যবহার করে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের জন্য কঠোর সীমা আরোপ করা হবে। এই নির্দেশনা আজ রাত ১২ টা থেকে শুরু হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১ টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত, মোট ৯৬ ঘণ্টা চলবে। নির্বাচনী পরিবেশে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিকাশ, রকেট এবং নাগদ সহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একক লেনদেনে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং প্রতিদিন সর্বোচ্চ দশটি লেনদেনের অনুমতি থাকবে, ফলে দৈনিক সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত পাঠানো সম্ভব হবে। এই সীমা পিটুপি লেনদেনের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত, আর অন্য কোনো ধরণের লেনদেনের ওপর প্রভাব পড়বে না।

মার্চেন্ট পেমেন্ট, ইউটিলিটি বিল এবং অন্যান্য নিয়মিত পরিষেবা পেমেন্টের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়মাবলী বজায় থাকবে; অর্থাৎ, ব্যবসায়িক লেনদেন ও বিল পরিশোধে কোনো সীমা আরোপ করা হয়নি। তবে এমএফএস প্রদানকারীদের অন্যান্য সেবা, যেমন ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, সেভিংস অ্যাকাউন্ট সংযোগ ইত্যাদি, উপরে উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এই ব্যবস্থা পিটুপি লেনদেনের বাইরে থাকা সেবাগুলোর ব্যবহারিকতা সীমিত করবে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পিটুপি লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট অথবা আইবিএফটির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি ট্রান্সফার করা যাবে না। ব্যবহারকারীদের এই সময়ে ব্যাংক অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স চেক, স্টেটমেন্ট ডাউনলোড এবং অন্যান্য নন-ট্রান্সফার সেবা ব্যবহার করা অনুমোদিত।

এমএফএস প্ল্যাটফর্মে কোনো আর্থিক অপরাধের সন্দেহ হলে তা সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ থানায় জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি এমএফএস সংস্থা নিজস্ব জরুরি রেসপন্স সেল গঠন করবে, যাতে অভিযোগ গ্রহণ, বিশ্লেষণ এবং দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া সব লেনদেনকে ক্লোজ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে; সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় রিপোর্ট করা হবে। এই ত্বরিত পদক্ষেপগুলো নির্বাচন কমিশন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, এই সীমাবদ্ধতা স্বল্পমেয়াদে পিটুপি লেনদেনের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটাবে, বিশেষত তরুণ ও নগদহীন গ্রাহকদের মধ্যে নগদ প্রবাহ কমে যাবে। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও বিল পরিশোধের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকায় ই-কমার্স ও সেবা খাতের কার্যক্রমে বড় প্রভাব পড়বে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সময়ে গ্রাহকদের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান এবং বিকল্প পেমেন্ট চ্যানেল (যেমন QR কোড, POS) ব্যবহার উৎসাহিত করতে হবে, যাতে লেনদেনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এই ধরনের নির্বাচন-সাপেক্ষ সীমা আর্থিক সেবার ডিজিটাল গ্রহণে সাময়িক বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তবে স্বচ্ছ ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই অস্থায়ী বিধিনিষেধ পিটুপি লেনদেনের অপব্যবহার রোধে লক্ষ্যভিত্তিক, এবং নির্বাচনের সময় আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে। ব্যবহারকারীদের উচিত নির্দেশনা মেনে চলা, সীমা অতিক্রম না করা এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দ্রুত আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় জানানো, যাতে নির্বাচনকালীন আর্থিক পরিবেশ স্বচ্ছ ও নিরাপদ থাকে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments