কক্সবাজার‑২ (মহেশখালী‑কুতুবদিয়া) আসনে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের নির্বাচনী জনসভা শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের পর্দা উন্মোচন করে, যেখানে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ধর্মকে ভোটের সঙ্গে যুক্ত করার প্রচারকে কঠোরভাবে নিন্দা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোট দিলে স্বর্গে যাওয়া যাবে এমন দাবি ধর্মের অপব্যবহার এবং তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।
সালাহউদ্দিন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “যদি ভোটের মাধ্যমে স্বর্গে যাওয়া যায়, তবে আগে মারা গেছেন এমন মানুষের কী হবে?” তিনি এটিকে “একটি ভোটের জন্য যা খুশি বলা হচ্ছে” বলে সমালোচনা করেন এবং এধরনের রেটোরিককে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
বক্তৃতায় তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াতে ভোট দেওয়া হারাম এবং মদিনার ইসলামের প্রতি বিশ্বাস রাখা উচিত, মওদুদীর ব্যাখ্যা নয়। তিনি ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন সংবিধানিক নীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে সংবিধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্মকে রাজনৈতিক আলোচনায় টেনে আনা উচিত নয়। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হত্যাকারীদের আজ মুক্তিযুদ্ধের নতুন ইতিহাস গড়ার চেষ্টা করার কথাও উল্লেখ করে সমালোচনা করেন।
জনসভায় তিনি মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, কক্সবাজারের সমুদ্র ও পর্যটন সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে তা বাস্তবায়িত হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা মাটারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে অঞ্চলের বৃহত্তম বন্দর ও অর্থনৈতিক হাবে রূপান্তরিত করবে বলে তিনি আশাবাদী। এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পের ইতিহাসের দিকে ফিরে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মাটারবাড়ি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জরিপ শুরু হয়। প্রথমে সোনাদিয়ায় পরিকল্পনা ছিল, তবে পরে তা মাটারবাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। ক্ষমতার পরিবর্তনের ফলে এই প্রকল্পটি প্রায় সতের বছর পিছিয়ে যায়।
পদ্মা সেতু সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, সেতুর নকশা ও সব কাজ সম্পন্ন করে বিএনপি সরকার ক্ষমতা ত্যাগের আগে কাজটি শেষ করেছিল। তবে পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার সেতুর খরচ চার গুণ বাড়িয়ে নেয়া নিয়ে তিনি সমালোচনা করেন।
সালাহউদ্দিনের মন্তব্যের পেছনে ধর্মীয় রেটোরিকের মাধ্যমে ভোট সংগ্রহের প্রচেষ্টা বিরোধিতা করা এবং সংবিধানিক নীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা লক্ষ্য। তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, “ইনশাআল্লাহ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের স্বপ্নগুলো পূর্ণ হবে এবং দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”



