যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গাজা অঞ্চলের পুনর্গঠন ও অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে তার “বোর্ড অব পিস” বা শান্তি পর্ষদের প্রথম বৈঠক ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনের পিস ইনস্টিটিউটে আয়োজনের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য গাজা অঞ্চলে শাসন, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি নিশ্চিত করা, পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে সংঘাত সমাধানের মডেল হিসেবে কাজ করা।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়ে এই বৈঠকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। আমন্ত্রণে গাজা নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিশ্ব নেতারা এবং পর্ষদের সম্ভাব্য সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। বৈঠকটি ওয়াশিংটনের পিস ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ট্রাম্প নিজেই চেয়ারম্যানের ভূমিকা পালন করবেন।
এই প্রথম বৈঠকে গাজা নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি জানুয়ারিতে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক নেতারা অংশ নেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আমন্ত্রণপ্রাপ্তদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং অন্যান্য প্রধান দেশগুলোর শীর্ষ রাজনীতিবিদ অন্তর্ভুক্ত। তবে এখন পর্যন্ত কতজন নেতার উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে তা স্পষ্ট নয়।
মার্কিন সরকারের দুই কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন যে, যদিও বেশ কিছু দেশ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে, তবে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত তালিকা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তারা উল্লেখ করেছেন যে, বৈঠকে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশগুলোকে সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হতে পারে এবং শেষ মুহূর্তে পরিবর্তনও হতে পারে।
এ পর্যন্ত নিশ্চিত করা একমাত্র আন্তর্জাতিক নেতা হলেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবর্ন, যিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন হিসেবে পরিচিত। ওরবর্ন ওয়াশিংটনে উপস্থিতি নিশ্চিত করে গাজা অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়ায় তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তার উপস্থিতি বৈঠকের আন্তর্জাতিক বৈধতা বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
শান্তি পর্ষদের নির্বাহী কমিটিতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার অন্তর্ভুক্ত। এই কমিটি গাজা শাসনের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবে। কমিটির সদস্যরা গাজা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করবে।
পর্ষদের প্রধান কাজ হবে গাজা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং পুনর্গঠন প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল সংগ্রহ করা। ট্রাম্পের মতে, এই পর্ষদ আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে একটি নতুন মডেল উপস্থাপন করবে এবং গাজা জনগণের জন্য টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
কিছু বিশেষজ্ঞের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে যে, এই স্বাধীন শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের ভূমিকা ও কার্যক্রমকে দুর্বল করতে পারে। তারা উল্লেখ করেন যে, বহুপাক্ষিক সংস্থার সাথে সমন্বয় ছাড়া স্বতন্ত্র কাঠামো গঠন করলে আন্তর্জাতিক আইনের সামঞ্জস্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তবে ট্রাম্পের দল এই উদ্বেগকে অস্বীকার করে পর্ষদের স্বায়ত্তশাসনকে গাজা শান্তি প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।
অতএব, আমন্ত্রণ পত্রে অন্তত ৫০টি দেশকে এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ট্রাম্পের ঐতিহ্যবাহী মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনও অন্তর্ভুক্ত। এই ব্যাপক আমন্ত্রণ গাজা সমস্যার সমাধানে বৈশ্বিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দেয়, যদিও কিছু দেশ এখনও অংশগ্রহণে দ্বিধা প্রকাশ করেছে।
ট্রাম্প জানুয়ারির শেষ দিকে শান্তি পর্ষদ চালু করে চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং বৈশ্বিক সংঘাতের সমাধানকে এর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন। পর্ষদের প্রথম বৈঠকের পর গাজা অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই বৈঠক গাজা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারে, তবে এর বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক সমর্থন কীভাবে গড়ে উঠবে তা পরবর্তী পর্যায়ে স্পষ্ট হবে।



