ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, রোববার প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভোট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তিনি শেষ মুহূর্তে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তবে আইনগত ও নিরাপত্তা সমস্যার মুখে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হন।
এই আসনটি সারাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এবং অতীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক গতিবিধি ও ভোটার গঠনকে বিবেচনা করলে এই পদত্যাগের প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
রোববার বিকালে জিয়াউল হক মৃধা স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে ভোট থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন যে ৫ আগস্টের পর থেকে তিনটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং এই মামলাগুলোর ফলে তিনি নিজের এলাকা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত মামলাগুলোর সঙ্গে তার কোনো সংযোগ নেই এবং তিনি সেই সময় সংসদ সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন না, এ কথাও তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, এই মামলাগুলো রাজনৈতিক স্বার্থ অর্জনের উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে।
প্রচারের শেষ পর্যায়ে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও উত্তর না পাওয়া যায়; ফোন লাইন বন্ধ ছিল। ফলে সরাসরি মন্তব্যের সুযোগ না থাকলেও, তার পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকেই তার অবস্থান স্পষ্ট।
জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় উপ-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বিকালে মিডিয়াকে জানিয়ে বলেন, তিনি বহুজনের কাছ থেকে এই বিষয়টি শোনার কথা জানেন, তবে দলের সমষ্টিগত কোনো সিদ্ধান্তের কথা তার জ্ঞানে নেই। তিনি দলের অভ্যন্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা অনুমোদন না থাকায় এই পদত্যাগকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল হক মৃধা ব্যাখ্যা করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন করা হয়েছিল, তবে তার আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি সরাসরি মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। তাই পার্টির নেতা-কর্মীরা তার পক্ষ থেকে পত্রটি জমা দিয়েছেন।
প্রার্থী হিসেবে তার নাম ঘোষিত হওয়ার পর থেকে তিনি ও তার দলের কর্মীরা বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি ও গ্রেপ্তারির মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের ভয়-ভীতি ও হুমকি চলমান থাকায় তিনি স্বাধীনভাবে প্রচার চালাতে পারছেন না এবং তাই দলীয় নেতাদের সঙ্গে পরামর্শের পর এই কঠিন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
প্রচারের সময়ে তিনি এবং তার সমর্থকদের ওপর চাপ বাড়ার ফলে তিনি অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না, এ কারণেই তিনি নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞপ্তির শেষে তিনি ভোটার, সমর্থক, আত্মীয়-স্বজন এবং দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি আশাবাদী যে তার এই পদক্ষেপ পার্টি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
জিয়াউল হক মৃধা ২০০৮ ও ২০১৪ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেন, তবে সেসব নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করতে পারেননি। তার এই পদত্যাগ জাতীয় পার্টির আসনের কৌশল পুনর্বিবেচনা এবং বিকল্প প্রার্থী নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা সৃষ্টি করবে।
ভবিষ্যতে এই পদত্যাগের ফলে জাপার ভোটের ভাগে প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে প্রতিপক্ষের প্রার্থীকে সুবিধা দিতে পারে। পার্টি দ্রুত নতুন প্রার্থী নির্ধারণের মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করবে, আর নির্বাচনী কমিশনের কাছেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা থাকবে।



