৪৬তম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) ২০২৩ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এই ফলাফলের ভিত্তিতে ১,৪৫৭ প্রার্থীর বিভিন্ন ক্যাডারে সাময়িকভাবে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারীরা তাদের অবস্থান জানার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
পিএসসি কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায় যে, সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই সুপারিশের ফলে নির্বাচিত প্রার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরবর্তী পদোন্নতি প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হবেন।
ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি পূর্বে ঘোষিত সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, ফলে প্রার্থীরা অনলাইন পোর্টালে লগইন করে নিজেদের র্যাঙ্ক ও ক্যাডার তথ্য যাচাই করতে পেরেছেন। প্রকাশের পর পিএসসি একটি সংক্ষিপ্ত নোটিশে ফলাফলের বৈধতা ও পরবর্তী ধাপের নির্দেশনা প্রদান করেছে।
লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক (ইন্টারভিউ) পরীক্ষা ১৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছে। এই ইন্টারভিউ পর্যায়ে প্রার্থীদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি মূল্যায়ন করা হয়েছে। ইন্টারভিউ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পিএসসি ফলাফল সংকলন করে সুপারিশ তালিকা প্রস্তুত করেছে।
ইন্টারভিউয়ের পূর্বে, ২৪ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত আবশ্যিক বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১০ আগস্ট থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত পদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রার্থীদের নির্দিষ্ট ক্যাডারের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান যাচাই করে। এই দুই ধাপের লিখিত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরে প্রার্থীরা প্রিলিমিনারি রাউন্ডে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে।
প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালের মে মাসে, অর্থাৎ ৮ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারিত ছিল। তবে বিভিন্ন লজিস্টিক ও প্রশাসনিক কারণে এই সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণ করে জুলাই-আগস্ট মাসে স্থানান্তর করা হয়। এই পরিবর্তন প্রার্থীদের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় প্রভাব ফেললেও শেষ পর্যন্ত সকল ধাপ সময়মতো সম্পন্ন হয়েছে।
বিসিএস ২০২৩ বিজ্ঞপ্তি ৩০ নভেম্বর, ২০২৩-এ প্রকাশিত হয় এবং এতে মোট ৩,১৪০ শূন্য পদ উল্লেখ করা হয়েছে। এই পদগুলো বিভিন্ন সরকারি ক্যাডারে ভাগ করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, পররাষ্ট্র, পুলিশ, আনসার, মৎস্য ও গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর অন্তর্ভুক্ত।
স্বাস্থ্য ক্যাডারে সর্বোচ্চ সংখ্যা নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে; সহকারী সার্জনের জন্য ১,৬৮২টি পদ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের জন্য ১৬টি পদ বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পদগুলো দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা ক্যাডারে ৫২০টি পদ রয়েছে, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষানীতি বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনিক কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশাসন ক্যাডারে ২৭৪টি পদ, পররাষ্ট্রে ১০টি, এবং পুলিশ ক্যাডারে ৮০টি পদ অন্তর্ভুক্ত।
অন্যান্য ক্যাডারের মধ্যে আনসার ১৪টি, মৎস্য ২৬টি এবং গণপূর্ত ৬৫টি পদ রয়েছে। এই পদগুলো দেশের বিভিন্ন সেবা ক্ষেত্রের কার্যক্রমে সমর্থন প্রদান করবে এবং জনসেবা মান উন্নয়নে সহায়তা করবে।
বিসিএস ২০২৩ পরীক্ষায় মোট ৩,৩৮০০০০টি আবেদন জমা হয়েছে, যা শূন্য পদের তুলনায় বিশাল পার্থক্য নির্দেশ করে। এই উচ্চ আবেদন সংখ্যা দেশের তরুণ প্রজন্মের সরকারি সেবা অর্জনের আগ্রহকে প্রকাশ করে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ১০,৬৩৮ প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন, যারা পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এই সংখ্যা দেখায় যে প্রাথমিক পর্যায়ে বড় সংখ্যক প্রার্থী সফলভাবে পার হয়েছে।
প্রার্থীদের জন্য একটি ব্যবহারিক পরামর্শ: ইন্টারভিউ বা লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় অফিসিয়াল সিলেবাসের পাশাপাশি বর্তমান সরকারি নীতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা উপকারী। এভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সফলতার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।



