অন্তর্বর্তী সরকার নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত তিনটি কমিশনের (জাতীয় বেতন কমিশন‑২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে‑কমিশন‑২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি‑২০২৫) দাখিলকৃত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ ও সুপারিশ প্রস্তুতের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল কমিশনগুলোর প্রস্তাবিত বেতন নীতি পর্যালোচনা করে সরকারকে চূড়ান্ত রূপরেখা উপস্থাপন করা। কমিটি গঠন সম্পর্কে সরকারী ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন করে পরবর্তী ধাপের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে।
কমিটির প্রধান হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সদস্য তালিকায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অফিস, এবং সেগুনবাগিচা, ঢাকার সিএজি অন্তর্ভুক্ত। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কমিটিতে অংশ নেবে।
কমিটির কাজের পরিধি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত; তারা তিনটি কমিশনের দাখিলকৃত রিপোর্টের বেতন সংক্রান্ত সকল দিক বিশ্লেষণ করবে, প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী বা অতিরিক্ত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গবেষণা চালাবে। বিশ্লেষণের ফলাফল শেষে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়া সরকারকে বেতন কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রমাণভিত্তিক ভিত্তি প্রদান করবে।
পটভূমিতে দেখা যায়, ২৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে সরকার ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করে সরকারি কর্মকর্তা‑কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দেয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশমালা জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে বাজেট পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ নীতিতে যথাযথ সমন্বয় করা যায়। কমিশনের কাজের গতি ও গুণমান নিশ্চিত করার জন্য এই সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছিল।
কমিশনের কাজের অগ্রগতি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পৌঁছায়; তখন কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা‑এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। এই হস্তান্তরটি সরকারী নথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে বেতন কাঠামোর মূল ধারণা ও প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। হস্তান্তরের পর থেকে সরকার সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামো শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারীর আয় বৃদ্ধি নয়, এটি জাতীয় বাজেটের ভারসাম্য, মজুরি ন্যায়সঙ্গততা এবং কর্মক্ষমতা ভিত্তিক বেতন নীতির বাস্তবায়নেও প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো পুনর্গঠন হলে সেবার মান ও কর্মী সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এই কমিটির সুপারিশ সরকারী নীতি ও আর্থিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
কমিটি গঠন ও তার কাজের সূচনা সরকারকে বেতন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি কাঠামো প্রদান করে। সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিএজি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ সম্ভব হবে, যা নীতি প্রণয়নের সময় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করবে।
প্রতিবেদন প্রস্তুতির সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে কমিটি দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে পরবর্তী বাজেট সেশনের আগে সুপারিশ জমা দেবে। এই সময়সীমা অনুসরণ করলে নতুন বেতন কাঠামো পরবর্তী আর্থিক বছরের বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে।
সারসংক্ষেপে, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা এই বিশেষ কমিটি বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোকে পর্যালোচনা করে সরকারকে সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ প্রদান করবে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল ভবিষ্যতে সরকারি কর্মচারী, বিচারক এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন নীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলবে, যা দেশের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



