আজ বিকেলে সেনপাড়া, আদর্শ হাই স্কুলে অনুষ্ঠিত বিএনপি ক্যাম্পেইন র্যালিতে দলীয় চেয়ারপার্সন তারেক রহমান উপস্থিত হয়ে দলের নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। র্যালিটি ঢাকা-১৫ নির্বাচনী এলাকার প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে আয়োজন করা হয়।
তারেক রহমান র্যালিতে বলেন, “বিএনপি কখনো এমন প্রতিশ্রুতি দেবে না যা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব”। তিনি জোর দিয়ে জানান, জনগণই দলের শক্তির মূল উৎস এবং জনস্বার্থের বিরোধী কোনো প্রতিশ্রুতি দল গ্রহণ করবে না।
তিনি ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনের গুরুত্বকে ভোটদান কার্যক্রমের বাইরে একটি পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। “এই নির্বাচন দেশের পুনর্গঠন ও মানুষের জীবনের উন্নয়নের জন্য একটি মোড় ঘুরিয়ে দেবে” তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির নির্বাচনী ম্যানিফেস্টে নারী, ছাত্র, বেকার যুবক, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য স্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। “আমরা আমাদের মায়েরা, বোনেরা, ছাত্রছাত্রী এবং লক্ষ লক্ষ বেকার মানুষের জন্য কী করতে চাই তা ব্যাখ্যা করেছি” তিনি যোগ করেন।
নারী ক্ষমতায়নের কথা বলার সময় তিনি দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী হওয়ার কথা উল্লেখ করে বলেন, “নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করা আমাদের লক্ষ্য”।
তারেক রহমান খালেদা জিয়ার শাসনকালে শিক্ষার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে প্রথম শ্রেণি থেকে বারোতম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা বিনামূল্যে করা হয়েছিল।
পরিবারের গৃহিণীদের সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করতে তিনি পরিবার কার্ড বিতরণ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যাতে গৃহিণীরা সরকারী সহায়তা পেয়ে ধীরে ধীরে স্বনির্ভর হতে পারে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য তিনি প্রতিটি এলাকার অন্তত একটি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কথা বলেন। এই কেন্দ্রগুলো ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা প্রদান করবে, যাতে যুবক-যুবতীরা নিজস্ব ব্যবসা শুরু করতে বা বিদেশে কর্মসংস্থান পেতে সক্ষম হয়।
বিদেশে কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর জন্য তিনি কম সুদের ব্যাংক ঋণ প্রদান করার পরিকল্পনা জানান, যাতে তরুণরা জমি বিক্রি না করে বিদেশে কাজের সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
র্যালিতে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সমর্থনে উপস্থিত ভক্তদের উচ্ছ্বাস দেখা যায়, এবং তারেক রহমানের বক্তব্যে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে সাড়া দেন।
বিপক্ষের কিছু বিশ্লেষক র্যালিতে উত্থাপিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তবে এখন পর্যন্ত বিরোধী দলের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তারেক রহমানের এই র্যালি এবং ঘোষণাগুলো আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবং ভোটারদের কাছে দলের স্বচ্ছতা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



