৬০ বছর বয়সী শিবশংকর পাল, জার্মানিতে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দৌড়বিদ, কলকাতা সল্টলেক স্টেডিয়াম থেকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে ৪২.২ কিলোমিটার ফুল ম্যারাথন সম্পন্ন করেন। তিনি ৩ ঘণ্টা ২৯ মিনিটে দৌড় শেষ করে রোববার সকালে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্টে অংশগ্রহণের আনন্দ প্রকাশ করেন।
এই ম্যারাথনটি এনইবি স্পোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এবং ভোর ৪টায় ফুল ম্যারাথনের সূচনা হয়। দৌড়ের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৫০ বছর নির্ধারিত থাকলেও শিবশংকর ৬০ বছর বয়সেও অংশ নেন। একই দিনে ১০ কিলোমিটার হাফ ম্যারাথন সকাল ৬:৩০ টায় এবং ৫ কিলোমিটার ফান ম্যারাথন সকাল ৮:১৫ টায় শুরু হয়, মোট তিনটি দৌড়ে প্রায় সাত হাজার অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন করেন।
শিবশংকর পালের জন্ম বাংলাদেশের নবাবগঞ্জে, যেখানে তিনি নবাবগঞ্জ হাইস্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি জার্মানির মিউনিখে চলে যান এবং সেখানে ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকান চালু করেন। ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি দৌড়ের প্রতি তার উত্সাহ কখনো কমেনি।
বিশ্বের প্রধান ম্যারাথনগুলোতে শিবশংকর বহুবার অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। নিউইয়র্ক, শিকাগো, বোস্টন, বার্লিন, টোকিও এবং লন্ডন ম্যারাথনের তালিকায় তার নাম রয়েছে। মিউনিখে তিনি একবার সপ্তম স্থান অর্জন করেন। তাছাড়া তিনি সুইজারল্যান্ডের ‘টপ অব দ্য হিল’ এবং হিমালয়ের এভারেস্ট বেস ক্যাম্প থেকে নেমে আসার দু’টি দৌড়ের স্মৃতি ভাগ করেন।
কোলকাতা ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার সন্তানদের অনুরোধে গৃহীত হয়। তিনি জানান, “দুবাই ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে সন্তানদের আহ্বানে এখানে এসে দৌড়াতে পেরে আনন্দিত।” দৌড়ের সময় তিনি বাংলাদেশের নানা স্মৃতি অনুভব করেন এবং দেশপ্রেমের উষ্ণতা অনুভব করেন।
শিবশংকর ৪ ফেব্রুয়ারি বুধবার কোলকাতায় পৌঁছান, সঙ্গে তার স্ত্রী শিখা পাল। দম্পতির একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে, উভয়েই বর্তমানে পড়াশোনা করছেন এবং ছেলে ব্যবসায়িক কাজে সহায়তা করে। দম্পতি ১৫ ফেব্রুয়ারি জার্মানিতে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। শিবশংকর বলেন, “দৌড় এখন আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, প্রতিদিন সকালে প্রায় ষোলো কিলোমিটার দৌড়াই।”
কোলকাতা ম্যারাথনের আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন বয়সের দৌড়বিদদের জন্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে নবাগত থেকে অভিজ্ঞ দৌড়বিদ পর্যন্ত সবাই অংশ নিতে পারে। শিবশংকর পালের মতো অভিজ্ঞ দৌড়বিদের উপস্থিতি ইভেন্টের মর্যাদা বাড়িয়ে তুলেছে এবং স্থানীয় দৌড়বিদদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়েছে।
এই ইভেন্টের সফল সমাপ্তি স্থানীয় ক্রীড়া সম্প্রদায়ের উচ্ছ্বাসের সাথে সমাপ্ত হয়েছে। শিবশংকর পালের দৌড়ের গতি, তার বয়সের পরেও শারীরিক সক্ষমতা এবং জাতীয় পতাকার গর্বজনক প্রদর্শন কোলকাতা ও বাংলাদেশ উভয়ের জন্যই গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে তিনি আরও আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে অংশ নিতে চান, তবে এখন তার প্রধান লক্ষ্য হল পরিবার ও ব্যবসার সঙ্গে সময় কাটানো এবং দৈনন্দিন দৌড়ের রুটিন বজায় রাখা।



