বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রবিবার বিকেলে ঢাকা‑১৭ (ইসিবি চত্বর) নির্বাচনী রোডশোতে সরকার গঠন হলে রাজধানীর ৪০টি নতুন খেলার মাঠ ও ইসিবি চত্বর থেকে জসিমউদ্দিন সড়ক পর্যন্ত বর্তমান রাস্তাটি প্রশস্ত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
রোডশোটি তারেকের নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা‑১৭-এ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও সমর্থকরা দীর্ঘদিনের উন্নয়ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার বক্তৃতা শোনেন।
তারেকের মতে, নতুন মাঠগুলো শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে বিতরণ করা হবে, যাতে শিশুরা নিরাপদে খেলতে পারে এবং বয়স্ক নাগরিকরা বিকালে বা অবসরে আরামদায়ক হাঁটা-চলা করতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পগুলো শহরের সব কোণে সমান সুযোগ সৃষ্টি করবে।
রাস্তা প্রশস্তকরণ পরিকল্পনায় ইসিবি চত্বর থেকে জসিমউদ্দিন সড়ক পর্যন্ত বর্তমান সড়কের প্রস্থ বাড়িয়ে যানবাহনের চলাচল সহজ করা এবং যানজট কমানো লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই কাজটি সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত ও নিরাপদ পরিবহন সুবিধা প্রদান করবে।
তারেক বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে ঢাকা শহরকে এমনভাবে গড়ে তুলব যে মানুষ শ্বাসের স্বস্তি পাবে, আর এই উন্নয়নগুলো তারেকের নিজের বাড়ির পেছনের গলিতে শুরু হবে।” তিনি নিজের শৈশবের স্মৃতি ও এলাকার সঙ্গে তার গভীর সংযোগ তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন।
তিনি ১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনে “ধানের শীষের প্রার্থী” হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে, সমর্থকদের কাছে ভোটের আহ্বান জানান। এই রূপকটি তার নিজ এলাকার প্রতি গর্ব ও দায়িত্বের প্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
রোডশোর পর তারেক একই দিনে ঢাকা‑১৬, ঢাকা‑১৫, ঢাকা‑১৪, ঢাকা‑১৩ ও ঢাকা‑১১ নির্বাচনী এলাকায়ও জনসমাবেশের পরিকল্পনা করেন। প্রতিটি স্থানে তিনি ভিন্ন ভিন্ন স্থান নির্বাচন করেছেন, যাতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা যায়।
ঢাকা‑১৬-এ পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে, ঢাকা‑১৫-এ মিরপুর‑১০ গোলচত্বরের সংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে, ঢাকা‑১৪-এ ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় ফটকে, ঢাকা‑১৩-এ শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং ঢাকা‑১১-এ বাড্ডার সাঁতারকুলের সানভ্যালি মাঠে তিনি বক্তৃতা দেবেন।
এই রোডশোগুলো আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রাক-প্রচারের অংশ, যেখানে তারেক রহমান গুলশান, বনানী ও ঢাকা সেনানিবাস এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা‑১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখনও তার এই উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য দেননি।
বিএনপি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং সরকার গঠন করে, তবে তারেকের ঘোষিত ৪০টি মাঠ ও রাস্তা প্রশস্তকরণ প্রকল্পগুলো শহরের নগর পরিকল্পনা ও জনসেবা উন্নয়নের মূল অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে নগর উন্নয়নকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আলোচনার নতুন দিক তৈরি করতে পারে।



