ঝালকাঠির নলছিটি বিজয় উল্লাস চত্বরে রবিবার দুপুরে এক প্রতিবাদে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি উপস্থিত হয়ে হাদির হত্যার বিচারের দাবি পুনরায় তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার চাওয়া হলে সরকারকে নির্বাচন গড়া-ফড়া করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।
মাসুমা হাদি স্পষ্ট করে বলেন, তারা নির্বাচন গড়া-ফড়া করতে চায় না; বরং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনকে বাধা না দিয়ে দ্রুত অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার। তিনি যুক্তি দেন, ভারতের পক্ষ থেকে এই দেশে নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন না করার চাপ রয়েছে।
প্রতিবাদে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, নলছিটি ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা এবং নলছিটি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একত্রে তার বক্তব্যকে সমর্থন করে। সমাবেশের সময় হাদির পরিবার ও সমর্থকরা একত্রে মঞ্চে উঠে ভোটের গুরুত্ব ও ন্যায়বিচারের দাবি জানায়।
মাসুমা হাদি ভোটারদের আহ্বান জানান, “১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দেবেন।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের পর যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
হাদির হত্যার বিচারের দাবি এবং নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি বলেন, “যদি বিচার না হয়, তবে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” তার মতে, ন্যায়বিচার ছাড়া কোনো সরকার বৈধতা পাবে না এবং জনগণের আস্থা হারাবে।
প্রতিবাদের সময় উপস্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্যরা হাদিরের পরিবারের সঙ্গে একমত পোষণ করে, তারা দাবি করে যে শহীদ শরীফের ন্যায়বিচার ছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে না। তারা উল্লেখ করে, হাদিরের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার করা দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষার জন্যও অপরিহার্য।
মাসুমা হাদি বলেন, “আমরা নির্বাচন গড়া-ফড়া করতে চাই না, বরং দেশের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন চাই।” তিনি যুক্তি দেন, ভারতের হস্তক্ষেপের ফলে দেশের স্বায়ত্তশাসন ও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই প্রতিবাদে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা হাদিরের ন্যায়বিচার ও নির্বাচনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চায়। তারা মঞ্চে উঠে ভোটের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করে, যাতে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ে।
হাদিরের পরিবার ও সমর্থকরা উল্লেখ করেন, শহীদ শরীফের আত্মত্যাগের পরিণতি হিসেবে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দাবি করে, হাদিরের হত্যাকারীদের শীঘ্রই আদালতে হাজির করা হবে।
প্রতিবাদের সময় হাদিরের বোনের বক্তব্যের পর উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে ভোটের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। তারা ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করে, যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে।
মাসুমা হাদি শেষ করে বলেন, “যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদিরের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হবে।” তার এই বক্তব্য সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দৃঢ় সমর্থন পায়।
এই প্রতিবাদ এবং হাদিরের ন্যায়বিচার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, নির্বাচনের সময়সূচি ও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হাদিরের হত্যাকারীদের বিচারের ব্যবস্থা করবে এবং নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন পরিচালনা করবে।



