গতকাল রাত একটায় বিসিবি পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সভাপতি আমিনুল ইসলামের জরুরি বার্তা শেয়ার করা হয়। বার্তায় তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছিলেন এবং পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সফরের কারণ স্পষ্ট না করলেও তিনি টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে আইসিসির সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে লাহোরে আইসিসি ও পিসিবি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়, প্রায় এক ঘন্টা আগে সফর নিশ্চিত হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে বিমানবন্দরে আছেন। সময়সীমার টানাটানির কারণে কোনো ফোন কল করা সম্ভব হয়নি। লাহোরে আগামীকাল বিকাল চারটায় মিটিং নির্ধারিত এবং সফর শেষে তিনি ৯ তারিখ সন্ধ্যায় ফিরে আসবেন।
বিসিবি পরিচালকেরা গ্রুপের বার্তা থেকে শুধুমাত্র এটাই জানেন যে সভাপতি আইসিসি ও পিসিবি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে লাহোরে যাচ্ছেন। সভার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের একটি সূত্রের মতে, আইসিসি একটি প্রতিনিধিদলকে লাহোরে পাঠিয়েছে যাতে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যায়। একই সঙ্গে, পাকিস্তান ভারতবিরোধী ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে বিশদ আলোচনা করতে চায়।
এই আলোচনার পটভূমিতে রয়েছে বাংলাদেশের ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত, যা পাকিস্তান সমর্থন করেছে। পাকিস্তান ইচ্ছা প্রকাশ করেছে যে, ভবিষ্যতে কোনো সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে তাদের পাশে রাখতে চাইবে। তাই আইসিসি ও পিসিবি উভয় সংস্থার সঙ্গে বিসিবি সভাপতি সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সফরের সময়সূচি অনুযায়ী, আমিনুল ইসলাম রাত সাড়ে একটার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন এবং দ্রুত লাহোরের দিকে রওনা হয়েছেন। তিনি গ্রুপে জানিয়েছেন, ৯০ মিনিট আগে সফর নিশ্চিত হওয়ায় কোনো অতিরিক্ত যোগাযোগের সুযোগ হয়নি।
লাহোরে মিটিংটি বিকাল চারটায় শুরু হওয়া নির্ধারিত, তবে এই প্রতিবেদনের রচনার মুহূর্তে সভা শুরু হয়নি বলে জানা যায়। মিটিংয়ের মূল এজেন্ডা টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতবিরোধী ম্যাচের বয়কট এবং পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা।
বিসিবি পরিচালকেরা সফর সম্পর্কে সীমিত তথ্য পেয়ে উদ্বিগ্ন, তবে তারা জানেন যে সভাপতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন। এই আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের সূচি ও অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।
আইসিসি ও পিসিবি উভয় সংস্থার প্রতিনিধিরা লাহোরে একত্রিত হয়ে টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিডিউল, ম্যাচের স্থল এবং নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই আলোচনায় বাংলাদেশকে কীভাবে অবস্থান নিতে হবে তা নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিসিবি সভাপতি সফরের আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছিলেন, যেখানে তিনি পাকিস্তানের দিকে যাত্রা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তার হঠাৎ সিদ্ধান্তের পেছনে আইসিসি ও পিসিবি সঙ্গে চলমান আলোচনার জরুরি প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে।
সফরের পরবর্তী পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমিনুল ইসলাম ৯ তারিখ সন্ধ্যায় বাংলাদেশে ফিরে আসবেন এবং পরিচালকদের সঙ্গে মিটিংয়ের ফলাফল শেয়ার করবেন। এই তথ্যগুলো পরিচালকদের গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ ক্রীড়া নীতি গঠনে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের লাহোরে আইসিসি ও পিসিবি প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি মিটিংয়ের সফর নিশ্চিত হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতবিরোধী ম্যাচের বয়কট এবং পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা। সফরটি রাত সাড়ে একটায় শুরু হয়ে ৯ তারিখ সন্ধ্যায় শেষ হবে।



