চিফ অ্যাডভাইজারের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম আজ ফেসবুকের মাধ্যমে জানিয়েছেন, নির্বাচনের পূর্বে কোনো সরকার সম্পূর্ণ সহিংসতা রোধের গ্যারান্টি দিতে পারে না, বিশেষত যখন প্রভাবশালী গোষ্ঠী সক্রিয়ভাবে বিশৃঙ্খলা উস্কে দেয়। তিনি টিএইবির (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) নির্বাচনী হিংসা সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় ভিন্ন বলে উল্লেখ করেন।
শফিকুল আলমের মতে, নিরাপত্তা বাহিনীর কাজের ওপর তীব্র নজরদারি চলছে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকগণ দেশে উপস্থিত। এই তিনটি উপাদানকে তিনি বর্তমান নির্বাচনের জন্য আশাব্যঞ্জক পরিবেশের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
টিএইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পর ৩৬ দিন মধ্যে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছে। তবে শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, পুলিশ রেকর্ডে দেখা যায় এই সময়কালে মাত্র পাঁচটি হত্যাকাণ্ড সরাসরি রাজনৈতিক প্রোফাইল বা কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংখ্যাগুলো অতিরিক্তভাবে প্রচার না করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
সেই পাঁচটি ঘটনার মধ্যে একটি ছিল শ্রীফ ওসমান বিন হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ড, যাকে গুলিবিদ্ধ করা হয় একটি মোটরসাইকেল চালানো গ্যাং সদস্যরা। শফিকুল আলম এই হত্যাকে “বিশেষভাবে নিষ্ঠুর” বলে বর্ণনা করে জানান, এটি কেবল তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে নিস্তব্ধ করতে নয়, রাজনৈতিক উত্তেজনার মুহূর্তে ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেও করা হয়েছিল। তবে তিনি যোগ করেন, এই উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
হত্যার পরপরই দেশের কোনো অংশে প্রতিশোধমূলক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েনি, এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াও কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হয়নি। শফিকুল আলমের মতে, টিএইবির উপস্থাপনা থেকে মূল বিষয়টি বাদ পড়েছে—যে নির্বাচন সংক্রান্ত সহিংসতা বাংলাদেশে নতুন নয়। তিনি অতীতের কয়েকটি নির্বাচনের উদাহরণ দিয়ে এই বিষয়টি স্পষ্ট করেন।
২০২৪ সালের ‘শ্যাম’ নির্বাচনে ছয়জনের মৃত্যু ঘটেছিল, ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচনকে ঘিরে ২২ জনের প্রাণহানি হয় এবং ২০১৪ সালের ‘রিগড’ ভোটে কমপক্ষে ১১৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড হয়েছে। শফিকুল আলম এই তথ্যগুলোকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে তুলনা করে দেখান, যে বর্তমান প্রি-ইলেকশন সময়ে এমন কোনো বিশাল ভাঙন ঘটেনি যা পূর্বের নির্বাচনগুলোতে দেখা গিয়েছিল।
অন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও স্থানীয় নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা বাহিনীর স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক দলের সমন্বিত কাজকে শফিকুল আলম ভবিষ্যৎ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিচালনার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতামূলক পরিবেশের ফলে ভোটারদের ভোটদান প্রক্রিয়া নির্ভয়ে সম্পন্ন হবে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
শেষে শফিকুল আলম জোর দিয়ে বলেন, টিএইবির প্রতিবেদনকে যথাযথ প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা দরকার, যাতে অতীতের সহিংসতার সঙ্গে বর্তমানের পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলনা করা যায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া পূর্বের ভয়াবহ চক্রকে ভাঙতে সক্ষম হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুদৃঢ় হবে।



