বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ বিকেলে ঢাকা-১৭ নির্বাচনী এলাকার ইবিসি চত্বর থেকে একটি বিশাল সমাবেশের সূচনা করেন। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে দলকে ক্ষমতা দানের জন্য ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন। সমাবেশে নিরাপত্তা, খেলাধুলার মাঠ এবং সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়।
সমাবেশের উদ্বোধনী ভাষণে তারেক নিজেকে “এই এলাকার সন্তান” বলে পরিচয় দেন এবং স্থানীয় বাসিন্দা, বয়োজ্যেষ্ঠ, মা, ভাইবোনদেরকে বিএনপি’র প্রতীক “ধানের শীষ” ভোট দিতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, এই এলাকার সঙ্গে তার শৈশবের পরিচয় তাকে ভোটের আবেদনকে আরও গুরুত্ব দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
তারেকের মতে, বিএনপি সরকার গঠিত হলে প্রথম কাজ হবে ঢাকাকে নিরাপদ শহরে রূপান্তর করা। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে মা ও বোনেরা যেকোনো সময় ভয় ছাড়াই রাস্তায় হাঁটতে পারবেন এবং ব্যবসা-ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি আল্লাহর ইচ্ছা ও মানুষের সমর্থনকে মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
শহরের খেলাধুলার মাঠের অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মোট কমপক্ষে চল্লিশটি নতুন খেলাধুলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ শুধুমাত্র ঢাকা-১৭ নয়, পুরো শহরের শিশু ও যুবকদের জন্য বিনোদন ও শারীরিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি দীর্ঘস্থায়ী দাবি হল ইবিসি চত্বর থেকে জশিমুদ্দিন পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করা। তারেক এই চাহিদা স্বীকার করে বলেন, ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে গতি ও বসবাসের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি এ বিষয়ে আল্লাহর রহমত ও ভোটারদের সমর্থনকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এইসব প্রতিশ্রুতি তিনি ভোটারদের কাছে তুলে ধরার সময় জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি’র সাফল্য নির্ভর করে জনগণের বিশ্বাস ও সমর্থনের ওপর। তিনি ভোটারদের আহ্বান করেন, যেন তারা “ধানের শীষ” চিহ্নে ভোট দিয়ে শহরের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন।
অন্যদিকে, শাসনকালে থাকা আওয়ামী লীগ থেকে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পার্টির প্রতিনিধিরা সমাবেশের বিষয়বস্তু বা তারেকের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৭ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় স্থানীয় নেতার সরাসরি সংযোগ এবং উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে তারা সতর্ক করেন, ভোটারদের সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত নীতি ও পারফরম্যান্সের উপর নির্ভর করবে।
জাতীয় নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, যেখানে সকল পার্টি পার্লামেন্টের ৩১০টি আসন জয়ের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে এবং সরকার গঠনের পর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবে।
তারেকের এই সমাবেশের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করে, নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং সামাজিক সুবিধা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছেন। ভোটারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়া এবং সমর্থনই শেষ পর্যন্ত তারেকের এবং বিএনপি’র নির্বাচনী কৌশলের সাফল্য নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের এই ভোট আহ্বান এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা ঢাকা-১৭ এলাকার রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন দিক যোগ করেছে, যা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



