প্রাক্তন নারী ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন জাহানারা আলম ২০২২ বিশ্বকাপের সময় দল ব্যবস্থাপনা সদস্যের দ্বারা হয় allegedly হয়রানি সংক্রান্ত অভিযোগের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তদন্ত কমিটির জমা করা প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তদন্তের ফলাফল তার প্রত্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অভিযোগগুলো মূলত নারী ক্রিকেটে অনিয়ম ও হয়রানি সংক্রান্ত, যা আলমের নেতৃত্বকালে ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। এই অভিযোগগুলোতে দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনা সদস্যের আচরণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাঠায়।
স্বাধীন তদন্ত কমিটি চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ চালায়। কমিটি সদস্যদের মতে, দুইটি অভিযোগে প্রমাণের অভাবের কারণে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। অন্য দুইটি অভিযোগে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়, যা যথাযথভাবে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রমাণিত দুইটি অভিযোগের মধ্যে একটি ছিল তখনকার নারী দলের সিলেক্টর ও ম্যানেজার মো. মনজুরুল ইসলাম-এর আচরণ সংক্রান্ত। কমিটি উল্লেখ করেছে যে, তার কিছু কাজ পেশাদার মানদণ্ডের বিরোধী এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী তা হয়রানি ও অনিয়মের সংজ্ঞায় পড়ে।
কমিটি আরও জানায় যে, মো. মনজুরুল ইসলাম-এর চুক্তি ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেষ হয়। তবে, তদন্তে পাওয়া প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে তার আচরণকে অনুপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে কমিটি বলেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি একটি অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছে, বোর্ডের আইনগত দলকে তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী কাজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বোর্ডের শূন্য-সহনশীলতা নীতি অনুসারে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বোর্ড প্রাসঙ্গিক নিয়মাবলী এবং দেশের আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত। এই পদক্ষেপগুলোকে বোর্ডের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার রক্ষার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৮ ফেব্রুয়ারি জাহানারা আলমের আইন সংস্থা মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি প্রকাশিত বিবৃতিতে জানান যে, তদন্ত প্রক্রিয়া যদিও শেষ হয়েছে, তবে প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণভাবে সন্তোষজনক নয়। তারা বোর্ডের সিদ্ধান্তে কিছু বিষয় অব্যাহত রেখে আরও স্পষ্টতা চেয়েছে।
মাহবুব অ্যান্ড কোম্পানি উল্লেখ করেছে যে, আলমের পক্ষ থেকে তদন্তের ফলাফল স্বীকৃত হলেও, কিছু প্রমাণের ব্যাখ্যা ও শাস্তি নির্ধারণে অতিরিক্ত স্পষ্টতা প্রয়োজন। তারা বোর্ডকে অনুরোধ করেছে যে, প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
জাহানারা আলম নিজে প্রতিবেদনটি স্বীকার করে বলেছেন যে, স্বাধীন তদন্ত কমিটি বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করেছে, যা একটি ইতিবাচক প্রক্রিয়াগত অগ্রগতি। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ফলাফল সম্পূর্ণভাবে তার প্রত্যাশা পূরণ করেনি এবং অতিরিক্ত পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নজরে থাকবে। বোর্ডের আইনগত দল ইতিমধ্যে তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রস্তুত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষে, নারী ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নীতি ও প্রক্রিয়াগুলোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতায় এই বিষয়টি সমাধান করা হলে নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।



