বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও যুক্তরাজ্য সরকার গর্বের সঙ্গে গৃহীত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে রয়্যাল নেভির আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক জরিপ জাহাজ HMS Enterprise বাংলাদেশে ক্রয় করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি রবিবার নৌবাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশনস) রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. শফিকুর রহমান এবং যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মিস ন্যানিসে কালোবুলাওয়াসাইকাবারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সরকার-থেকে-সরকার (G2G) ভিত্তিতে আলোচনার পর চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম. নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যের হাই-কমিশনার, যুক্তরাজ্যের সামরিক উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান স্টাফ অফিসার এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণও সমাবেশে অংশ নেন।
চুক্তির পটভূমিতে ২০২৫ সাল থেকে দুই দেশের ধারাবাহিক সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা রয়েছে, যা আজকের চুক্তিকে সম্ভব করেছে। পূর্ববর্তী যৌথ প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং সমুদ্র নিরাপত্তা প্রকল্পগুলো এই পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তি গড়ে তুলেছে।
এই চুক্তি বাংলাদেশ সরকারের সামরিক আধুনিকীকরণ পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ জাহাজের অধিগ্রহণ নৌবাহিনীর সমুদ্র পর্যবেক্ষণ ও মানচিত্রণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি দেশের সামুদ্রিক গবেষণা ও নেভিগেশনাল সেবা উন্নত করতে সহায়তা করবে।
চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগও প্রসারিত হবে। ভবিষ্যতে আরও জাহাজ, রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্রয় বা ভাগাভাগি করা সম্ভব হতে পারে। এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
HMS Enterprise রয়্যাল নেভির একটি আধুনিক জরিপ জাহাজ, যা বহুমাত্রিক সমুদ্র গবেষণার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। জাহাজটি মাল্টিবিম ইকো সাউন্ডার, সাইড স্ক্যান সোনার এবং সাব-বটম প্রোফাইলারসহ উন্নত হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশানোগ্রাফিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ।
এই যন্ত্রপাতিগুলো গভীর সমুদ্রের তলায় সুনির্দিষ্ট ডেটা সংগ্রহ, সীবেড ম্যাপিং এবং শারীরিক ওশানোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহে সক্ষম। প্রাপ্ত তথ্য নেভিগেশনাল চার্ট তৈরিতে, সমুদ্র পরিবেশ পর্যবেক্ষণে এবং সামুদ্রিক সম্পদ অনুসন্ধানে ব্যবহার করা হবে।
জাহাজে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং ডেক এবং আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা যুক্ত রয়েছে, যা দূরবর্তী অঞ্চলে দ্রুত অপারেশন ও সমন্বয়কে সহজ করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো জরিপ মিশনকে বহুমুখী করে তুলবে এবং জরুরি অবস্থায় ত্রাণ কাজেও সহায়তা করতে পারবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরই দুই দেশের কূটনৈতিক ও সামরিক দলিলপত্র সম্পন্ন করা হবে এবং জাহাজের ডেলিভারির সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এই সহযোগিতা বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে এবং সমুদ্র নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উভয় দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করবে।



