থাইল্যান্ডে আজ বিকাল ১ টা থেকে ত্বরিত সাধারণ নির্বাচনের ভোটিং শেষ হয়েছে; তিন বছরেই ত্রয়ী প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তন, ভাঙা জোট সরকার এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের ফলাফল রাত ২২ টার (গ্রীনউইচ মান ১৫:০০) দিকে প্রকাশের আশা করা হচ্ছে, তবে কোনো দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে না বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা রিফর্মিস্টদের সমর্থনকারী পিপলস পার্টি এবং সংরক্ষণবাদী বুমজাইথাই পার্টির মধ্যে। পিপলস পার্টি ২০২৩ সালের নির্বাচনে ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি নিয়ে জয়লাভ করলেও, সামরিক নিয়োগকৃত সেনেট তাদের সরকার গঠন থেকে বাধা দেয় এবং সংবিধানিক আদালত পার্টিটিকে বিলুপ্ত করে দেয়। ফলে, অ-নির্বাচিত শক্তিগুলি বারবার এমন দলগুলোর পথ বন্ধ করেছে, যারা প্রতিষ্ঠিত শৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জ করে।
বুমজাইথাই পার্টি, যার নেতৃত্বে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনুটিন চর্নাভিরাকুল, প্রায় এক দশক আগে একটি ছোট প্রাদেশিক দল থেকে রূপান্তরিত হয়ে সংরক্ষণবাদী শক্তির মুখবিন্দু হয়ে উঠেছে। তিনি গত বছর কেম্বোডিয়ার সঙ্গে দুইটি সীমান্ত সংঘর্ষের পর দেশীয় উত্সাহকে কাজে লাগিয়ে, রাজপরিবার ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার দল ঐতিহ্যবাহী থাই মূল্যবোধকে রক্ষা করে ভোটারদের সমর্থন জোরদার করতে চায়।
তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হল শিনাওয়াত্রা পরিবার এবং তাদের পেহু থাই পার্টি, যা পূর্বে বহু নির্বাচনে শীর্ষে ছিল এবং জনপ্রিয় পপুলিস্ট নীতি দিয়ে ভোটারকে আকৃষ্ট করত। এইবার তারা দৈনিক নয়টি নতুন মিলিয়নিয়ার তৈরি করার জন্য জাতীয় লটারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, পাশাপাশি ভোটারকে নগদ সহায়তা ও সাবসিডি প্রদান করে ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
তবে পেহু থাই পার্টি এই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সমর্থন হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের শেষ জোট সরকার কেম্বোডিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নীতিগত ত্রুটির জন্য সমালোচিত হয়েছিল, এবং পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রা বর্তমানে কারাগারে বন্দী। এই পরিস্থিতি পার্টির জনপ্রিয়তাকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং ভোটারদের মধ্যে সন্দেহের সঞ্চার করেছে।
বুমজাইথাই ও পেহু থাই উভয়ই ভোটারকে সরাসরি আর্থিক সুবিধা প্রদান করে ভোটের হার বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। বুমজাইথাই পূর্বে গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামো প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারকে আকৃষ্ট করেছিল, আর পেহু থাই লটারির মাধ্যমে দৈনিক নতুন ধনী তৈরি করার পরিকল্পনা করে ভোটারকে আকৃষ্ট করতে চায়। এই ধরনের নগদ-ভিত্তিক প্রচারাভিযান থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন নয়, তবে এইবারের নির্বাচনে তা বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
ফলাফল প্রকাশের পর বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে কোনো দলই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না, ফলে পুনরায় জোট গঠন প্রয়োজন হবে। পিপলস পার্টি যদি শীর্ষে থাকে, তবে তাকে সেনেটের বাধা ও আদালতের হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে, যা তার সরকার গঠনকে জটিল করে তুলবে। অন্যদিকে, আনুটিনের বুমজাইথাই যদি সমর্থন বাড়াতে পারে, তবে তিনি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রক্ষার রেটোরিক দিয়ে সংরক্ষণবাদী জোটকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন।
রাজনৈতিক দিক থেকে এই নির্বাচন থাইল্যান্ডের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যদি রিফর্মিস্টদের প্রভাব বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদী কাঠামোগত সংস্কারের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সংরক্ষণবাদী জোটের জয় হলে বর্তমান রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সামরিক ও রাজপরিবারের প্রভাব আরও দৃঢ় হবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশের গতিশীলতা রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে ধীর হয়ে গেছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ভোটারদের মধ্যে মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির প্রতি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে, এবং এ বিষয়গুলোই ভোটের মেজাজে প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের ফলাফল কী হোক না কেন, থাইল্যান্ডের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য হবে।
সারসংক্ষেপে, আজকের ভোটের ফলাফল থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করবে, যেখানে রিফর্মিস্ট, সংরক্ষণবাদী ও শিনাওয়াত্রা পরিবারিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলবে। ফলাফল প্রকাশের পর জোট গঠন, আইনগত চ্যালেঞ্জ এবং অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে মূল ভূমিকা রাখবে।



