আজ জাপানের ত্বরিত নির্বাচনের ভোট শেষ হয়েছে এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে টাকাইচি নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (LDP) অধিকাংশের সম্ভাবনা পেয়েছে বলে প্রাথমিক জরিপগুলো জানাচ্ছে।
টাকাইচি চার মাস আগে লিডারশিপ গ্রহণের পর স্পষ্ট জনগণীয় ম্যান্ডেটের সন্ধানে এই অপ্রত্যাশিত নির্বাচন আহ্বান করেন। তার পূর্বসূরিদের তুলনায়, যাদের শাসনকালে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও ব্যয়বৃদ্ধি পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল, টাকাইচি এখন উচ্চ অনুমোদন পেয়েছেন।
যুদ্ধোত্তর ইতিহাসে LDP প্রায়ই একক শাসন চালিয়ে এসেছে, প্রধানত শক্তিশালী বিরোধীর অভাবে এবং কোমেইতো পার্টির সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী জোটের কারণে। এই জোটের ভাঙ্গন এবং উভয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর, ত্বরিত নির্বাচনকে ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কিছু বিশ্লেষক দেখেছেন।
দুই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে এবং কোমেইতো জোটের পতনের পর, টাকাইচি দ্রুত সময়সীমা নির্ধারণ করে ভোটের আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর করার লক্ষ্যে এগিয়ে গেছেন। এই পদক্ষেপকে কিছু লোক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করলেও, তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক জরিপে টাকাইচির সরকারে অনুমোদন হার ৭০ শতাংশের উপরে স্থির রয়েছে এবং LDP-কে জাপানি ইনোভেশন পার্টির সঙ্গে মিলিয়ে নিম্নসভার ৪৬৫ আসনের মধ্যে প্রায় ৩০০ আসনের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। এই সংখ্যাগুলো শাসনকে স্থিতিশীল করতে পারে।
টোকিওর একজন ভোটার রিতসুকো নিনোমিয়া বলেন, “মূল্যবৃদ্ধি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বড় উদ্বেগের কারণ, তাই দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রয়োজন, স্বল্পমেয়াদী পদক্ষেপ নয়।” তার মতামত বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অন্য এক ভোটার রুমি হায়ামা উল্লেখ করেন, “গৃহমূল্য অত্যন্ত বাড়ছে, আমাদের সন্তান বড় হচ্ছে, কিন্তু বড় বাড়ি কেনা আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে পড়েছে, যদিও কাজের অবস্থান ভাল। আগে এমন ছিল না।” গৃহসঙ্কটের এই অনুভূতি তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে ব্যাপক।
টাকাইচি তার প্রচারণায় জনমুখী ব্যয়বহুল পরিকল্পনা এবং জাতীয়তাবাদী ভাষা ব্যবহার করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণে ব্যয় বৃদ্ধি করা হবে, যা কিছু ভোটারকে আশাবাদী করেছে।
অন্যদিকে, ব্যবসা জগৎ এবং আর্থিক বিশ্লেষকরা টাকাইচির ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে জাপানের সরকারি ঋণ উন্নত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চের মধ্যে একটি, এবং অতিরিক্ত ব্যয় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ধীর করতে পারে বলে উদ্বেগ।
যদি LDP সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে, তবে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী নীতি বাস্তবায়নে স্থিতিশীলতা ও ক্ষমতা অর্জন হবে, যা বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও গৃহমূল্যের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিপক্ষের দলগুলো এখনো সরকারের ব্যয় নীতি ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, এবং জনমতকে সঠিক পথে পরিচালনা করার জন্য আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা দাবি করছে।
ভোটের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার পর, টাকাইচি নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করে আইনসভা সেশনের সূচনা করবেন, যেখানে অর্থনৈতিক সংস্কার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়া জাপানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।



