20 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাচট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রম চালু, বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রম চালু, বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা সংস্থা (চবক) এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. মনিরুজ্জামান ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে বন্দর প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানিয়ে দেন, বন্দর এখন সম্পূর্ণভাবে চালু রয়েছে এবং কোনো বাধা সৃষ্টি করলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

বন্দর কর্মচারী ও শ্রমিকরা একই দিনে সকাল আটটায় নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) কে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পুনরায় শুরু করে। ধর্মঘটের ফলে গ্লোবাল কন্টেইনার বেস (জিসিবি) টার্মিনালের কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, অন্যদিকে চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও এনসিটি ধীর গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্দরের বর্হিনোঙরে ৮০টি বড় জাহাজের কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে বিঘ্ন দেখা যায়। বেসরকারি জাহাজ হ্যান্ডলিং অপারেটররা জানিয়েছেন, এই জাহাজগুলোর লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ছে।

চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেন, তিনি সকালে দুই ঘণ্টা ধরে বন্দর কর্মকর্তাবৃন্দ, কর্মচারী ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সব পক্ষই কাজ পুনরায় শুরু করে এবং কোনো বাধা না দিয়ে বন্দরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয়।

বৈঠকের সময় তিনি স্পষ্ট করেন, এনসিটি চুক্তি নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনার এখনও সমাপ্তি হয়নি। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে চূড়ান্ত শর্তাবলী নির্ধারিত না হওয়ায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

চেয়ারম্যানের মতে, চুক্তি সংক্রান্ত গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের প্রচার কিছু কর্মচারীকে ধর্মঘটের পথে নিয়ে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই গুজবগুলো বন্দর ও জনগণকে অস্থায়ীভাবে জিম্মি করে রেখেছে এবং তা দ্রুত দমন করা দরকার।

চুক্তি সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপিত হলে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের, জনগণের এবং বন্দর ভবিষ্যতের স্বার্থে যা প্রয়োজন তা করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই হবে, এটাই তার স্পষ্ট বক্তব্য।

বন্দরের আইনগত কাঠামো ও কর্মচারীর আচরণবিধি মেনে চলার গুরুত্ব তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, আইনের প্রতি সম্মান এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি শৃঙ্খলা বজায় রাখা সকল কর্মকর্তার মৌলিক দায়িত্ব।

কেউ যদি অন্যের আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিচ্যুতি দেখায়, তা কর্মচারীর আচরণবিধির সম্পূর্ণ লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে, তিনি বলেন। এমন কোনো আচরণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধর্মঘটকারীদের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সমালোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, রমজান মাসের আগমনের আগে এ ধরনের কাজ করলে জনমতকে উত্তেজিত করে সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

বন্দরের পরিচালনা সংস্থা এই পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক প্রবাহ বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর সময়সূচি রক্ষা করতে সচেষ্ট। ধীর গতিতে চলমান অপারেশন সত্ত্বেও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে, মূল সেবা ও লজিস্টিক্স সিস্টেমের কার্যকারিতা বজায় থাকবে।

বাজার পর্যবেক্ষকরা ইঙ্গিত দেন, ধর্মঘটের দীর্ঘায়ু ও চুক্তি আলোচনার অগ্রগতি বন্দর শুল্ক, কন্টেইনার টার্নওভার এবং রপ্তানি-আমদানি প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে বন্দর পরিচালনা সংস্থা যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে, তা ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments