20 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ মৃত, এক বরকে থামাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন

ইসলামাবাদে আত্মঘাতী হামলায় ৩১ মৃত, এক বরকে থামাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের তারলাই এলাকার খাদিজাতুল কুবরা ইমামবাড়িতে গত শুক্রবার আত্মঘাতী হামলা সংঘটিত হয়, যার ফলে অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ১৭০ জনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। হামলাটি মসজিদের পেছনের গেটের কাছাকাছি শুরু হয়, যেখানে শুটিং এবং বিস্ফোরণ একসাথে ঘটেছিল। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পুলিশ ও মেডিকেল টিম পৌঁছায়, আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

মৃত্যুর তালিকায় বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এবং মসজিদে উপস্থিত উপাসক অন্তর্ভুক্ত, আর আহতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। আহতদের মধ্যে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি, শ্বাসযন্ত্রের আঘাত এবং শারীরিক অঙ্গভঙ্গি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে জরুরি শল্যচিকিৎসা ও রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়।

আত্মঘাতী হামলায় নিহত এক তরুণের নাম আউন আব্বাস, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নতুন জীবনে পা রাখতে যাচ্ছিলেন। পরিবার জানায়, তার বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল এবং সে শীঘ্রই গৃহবধূকে বধূবধূ করা হবে। তার বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্নের তালিকায় নতুন দিক যোগ হচ্ছিল।

হামলার সময় আউন আব্বাস মসজিদের গেটের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যখন হামলাকারী গুলি ছুঁড়ে গিয়ে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন আউন তাকে থামানোর জন্য এগিয়ে যান। সূত্র অনুযায়ী, তিনি হামলাকারীর হাতে ধরা দিয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন, ঠিক সেই মুহূর্তে হামলাকারী নিজে বিস্ফোরণ ঘটায়।

আউনের পরিবার তার আত্মত্যাগকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে। তারা বলেন, তার সাহসিকতা অনেক মানুষের জীবন রক্ষা করেছে এবং যদি হামলাকারী গেট পার করে প্রবেশ করত, তবে ক্ষতি আরও বাড়ত। পরিবার সদস্যরা তার বিয়ের প্রস্তুতি ভেঙে গিয়েছে বলে শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার কাজের জন্য গর্বিতও বোধ করেন।

আউন আব্বাস এবং অন্যান্য মৃতদের জানাজা নামাজ শেষ করার পর দাফন করা হয়েছে। দাফন অনুষ্ঠানে বিশাল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে, যারা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হয়েছে। মসজিদ ও আশেপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ দেখা যায়।

পুলিশের মতে, হামলাকারী প্রথমে গুলি চালায় এবং পরে ইমামবাড়ার প্রবেশপথে নিজেকে বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একটি পরিচয়পত্রে হামলাকারীর নাম ইয়াসির, বয়স ৩২, পেশাওয়ার হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্তকারী দল জানিয়েছে, ইয়াসির গত পাঁচ মাস ধরে আফগানিস্তানে অবস্থান করছিল এবং সেখানে আত্মঘাতী হামলা ও অস্ত্র ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তার ফিরে আসার পর পরিকল্পনা করা হয়েছিল ইসলামাবাদের ইমামবাড়িতে আক্রমণ চালানোর।

অধিক তদন্তের জন্য ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে বিস্ফোরণের অবশিষ্টাংশ ও গুলির কেস সংগ্রহ করেছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মামলাটি টেররিজম বিরোধী বিশেষ আদালতে পাঠানো হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মামলার রেকর্ড প্রস্তুত করছেন।

সিকিউরিটি ফোর্স এখন পর্যন্ত এলাকার নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত পেট্রোল ও ক্যামেরা স্থাপন করেছে। মসজিদ ও পাবলিক স্থানগুলোতে প্রবেশদ্বার পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা রোধ করা যায়।

এই আত্মঘাতী হামলা দেশের নিরাপত্তা সংস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, এবং সরকারী দফতরগুলো এই ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments