বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য শুল্ক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে ২৫টি নতুন বোয়িং বিমান ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবের মূল উদ্দেশ্য হল দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে মসৃণ করা এবং এয়ারলাইনসের জাহাজবহরকে আধুনিকীকরণ করা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট ১৪টি বিমান ডেলিভারির লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। প্রস্তাবটি সরকারী পর্যায়ে আলোচনার জন্য উপস্থাপিত হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ২৫টি বোয়িং জেটের মধ্যে ১৪টি ২০৩৫ সালের শেষের আগে বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১১টি বিমান ভবিষ্যৎ সময়ে ক্রয় বা লিজের মাধ্যমে যুক্ত করা হতে পারে। এই ধরণের বড় আকারের অর্ডার বিমান শিল্পে দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের ফ্লিট গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্য শুল্ক সমন্বয়ের লক্ষ্য হল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান শুল্ক বাধা হ্রাস করে দু’দেশের পণ্য ও সেবার প্রবাহ সহজতর করা। নির্বাচনের পূর্বে এই চুক্তি সম্পন্ন করা হলে পরবর্তী সরকারকে কোনো বাণিজ্যিক বিরোধের মুখোমুখি হতে না হয়, এটাই সরকারী পরিকল্পনা। এই পদক্ষেপকে ত্বরিত নয়, বরং দেশের সামগ্রিক স্বার্থে কৌশলগত বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শেখ বশিরউদ্দিন উল্লেখ করেন, বাণিজ্য চুক্তি তাড়াহুড়োর বিষয় নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুল্ক সমন্বয় এবং বিমান ক্রয় উভয়ই জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারী উদ্যোগকে সমর্থন করা হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপদেষ্টা জানান, গত এক বছরে আন্তর্জাতিক রুটে বিমান ভাড়া আয় প্রায় অর্ধেক কমে গিয়েছে। এই হ্রাসের প্রধান কারণ হল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং ভ্রমণ সীমাবদ্ধতা। আয় হ্রাসের ফলে এয়ারলাইনসের আর্থিক কাঠামোতে চাপ বাড়লেও, নতুন ফ্লিটের মাধ্যমে বাজার শেয়ার পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন হজ মৌসুমে সৌদি আরবের প্রবাসীরা ২০,০০০ টাকার টিকিটে দেশে ফিরে আসতে পারবেন। এই টিকিটের মূল্য পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা হজ যাত্রীর আর্থিক বোঝা হ্রাস করবে। সস্তা টিকিটের মাধ্যমে এয়ারলাইনসের গ্রাহক ভিত্তি বিস্তৃত হবে এবং হজ সিজনে আয় বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লিট আধুনিকীকরণে ২৫টি বোয়িং জেটের অন্তর্ভুক্তি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করবে। নতুন জেটের জ্বালানি দক্ষতা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের হ্রাস দীর্ঘমেয়াদে অপারেশনাল ব্যয় কমাবে। তবে বৃহৎ মূলধন ব্যয় এবং ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আর্থিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা সরকার ও এয়ারলাইনসের জন্য সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শুল্ক সমন্বয় এবং বিমান ক্রয়ের সমন্বিত কৌশল যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশ উন্নত হবে এবং এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক রুটে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে গ্লোবাল জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের অস্থিরতা প্রকল্পের আর্থিক রিটার্নকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই সরকারকে আর্থিক সুরক্ষা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করে এই উদ্যোগকে সমর্থন করা জরুরি।



