দক্ষিণ আফ্রিকান সরকার কঙ্গোর গণপ্রজাতন্ত্রে পরিচালিত জাতিসংঘের শান্তি রক্ষাকারী মিশন থেকে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি ধীরে ধীরে শেষ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার অফিস শনি রাতের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, এই সিদ্ধান্তটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সম্পদ পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা থেকে এসেছে। প্রত্যাহার প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের শেষের আগে সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসা জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় তার ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করে, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর অগ্রাধিকার পুনর্গঠন করতে চায়। এই যোগাযোগের মাধ্যমে দু’পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ২৭ বছর ধরে কঙ্গোর শান্তি মিশনে অবদান রাখছে এবং বর্তমানে সেখানে ছয়শতাধিক সৈন্য মোতায়েন রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘমেয়াদী অংশগ্রহণ দেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নীতির একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কালে দেশীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে বাহিনীর পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়েছে।
ডিসেম্বরে মিশনের মেয়াদ বাড়ানোর সময়, কঙ্গোর জাতিসংঘ মিশনে প্রায় একোয়ান হাজার সৈন্য ও পুলিশ কর্মী নিযুক্ত ছিল। এই বৃহৎ শক্তি গোষ্ঠী পূর্বাঞ্চলের অস্থিরতা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। তবে সময়ের সাথে সাথে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মিশনের কার্যকারিতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
জাতিসংঘের মিশনের মূল দায়িত্ব হল পূর্ব কঙ্গোর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম দমন করা এবং বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলটি সশস্ত্র সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে, এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়ার ফলে মানবিক সংকট তীব্রতর হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রত্যাহার মিশনের সামগ্রিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রেসিডেন্ট রামাফোসার অফিসের বিবৃতি অনুযায়ী, প্রত্যাহারের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে জাতিসংঘের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হবে। লক্ষ্য হল ২০২৬ সালের শেষের আগে সমস্ত দক্ষিণ আফ্রিকান সৈন্য মিশন থেকে প্রত্যাহার করা, যাতে মিশনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এই সমন্বয় প্রক্রিয়ায় লজিস্টিক্স, নিরাপত্তা এবং স্থানান্তর পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা কঙ্গোর সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শক্তিশালী রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জনের জন্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগে সমর্থন অব্যাহত রাখবে। রামাফোসা উল্লেখ করেছেন যে, সামরিক উপস্থিতি হ্রাসের পরেও দেশটি মানবিক সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রত্যাহার আফ্রিকান ইউনিয়নের সাম্প্রতিক সামরিক পুনর্বিন্যাসের ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সময়ে, অন্যান্য দেশও তাদের শান্তি রক্ষাকারী মিশনে পুনর্গঠনমূলক পরিবর্তন বিবেচনা করছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমন্বয়ের নতুন পর্যায়ের সূচনা করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, দক্ষিণ আফ্রিকান সরকার কঙ্গোর জাতিসংঘ মিশন থেকে ধীরে ধীরে সৈন্য প্রত্যাহার করে, ২০২৬ সালের শেষের আগে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সমন্বিত হবে এবং কঙ্গোর স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় বহুপাক্ষিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। ভবিষ্যতে মিশনের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



