26 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিগণসংহতি আন্দোলন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ

গণসংহতি আন্দোলন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ

রবিবার বিকেলে ঢাকা শহরের হাতিরপুলে অবস্থিত গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার উন্মোচিত হয়। দলটি, যা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ, শিক্ষা, অর্থনীতি, জনশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারকে ভিত্তি করে “বৈষক্যহীন সমাজ” গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইশতেহারটি দলীয় কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল উপস্থাপন করেন।

রুবেল ইশতেহারকে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির সমাহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে নতুন করে গঠন করার সম্ভাবনা সামনে রয়েছে; এই ইশতেহারই সেই পথনকশা।” তার বক্তব্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, রাজনৈতিক অধিকার ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টন, এবং দুর্নীতি নির্মূলের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলটি শ্রমিক, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি ভিত্তিক বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে এসে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই অর্থনৈতিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে, সব শিশুর জন্য নিরাপদ ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করে, আধুনিক ও ভবিষ্যৎমুখী পাঠ্যক্রম চালু করার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য নীতিতে “চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না” শ্লোগান দিয়ে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। রুবেল উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, যাতে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চিকিৎসা সেবা সহজলভ্য হয়।

নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে বিশেষ নীতি গৃহীত হবে। ইশতেহারে নারীর সমমর্যাদা অধিকার, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং প্রাণী সংরক্ষণকে জাতীয় অগ্রাধিকারে রাখা হয়েছে।

গণসংহতি আন্দোলন ইশতেহারে উল্লেখ করেছে, নতুন রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক কাঠামোতে রূপান্তর করা হবে। এর জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার পুনর্গঠন, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

দলীয় ঘোষণার পর, বিরোধী দল আওয়ামী লীগ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে সরকারী দল এই ইশতেহারকে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নতুন পর্যায় হিসেবে দেখবে এবং নির্বাচনী প্রচারণায় এর প্রতি প্রতিক্রিয়া জানাবে।

ইশতেহারটি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে। দলটি দাবি করে, এই নীতি সমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং জনগণের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রতিনিধিরা ইশতেহারকে “ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিশা” বলে উল্লেখ করে, নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নীতিগুলি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা জানিয়েছেন।

সারসংক্ষেপে, দলটি সংস্কার, পুনর্গঠন এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্য নিয়ে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, যা অর্থনৈতিক রূপান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি, এবং নারীর ক্ষমতায়নকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ইশতেহার দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে কী ধরনের পরিবর্তন আনবে, তা আগামী মাসে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্পষ্ট হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments