চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান রোববার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে একটি সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, বন্দর বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে কাজ করছে। একই সময়ে, শ্রমিক ও কর্মচারীরা চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অধীনে চার দফা দাবির সঙ্গে ধর্মঘট শুরু করে, যা সকাল আটটায় বন্দর বহির্নোঙর ও জেটিতে পণ্য ওঠানো-নামানো বন্ধ করে দেয়।
ধর্মঘটের মূল দাবি হল নিউমুরিং টার্মিনালকে ইজারা না দেওয়া, টার্মিনাল লিজের সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করা এবং আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে গৃহীত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বাতিল করা। শ্রমিকরা এই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
ধর্মঘটের ফলে বন্দর কার্যক্রমে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটেছে; সকাল থেকে জেটি ও বহির্নোঙরে কোনো পণ্য লোডিং বা আনলোডিং হয়নি। এই বাধা সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে রমজান মাসের আগে সময়সীমা সংবেদনশীল পণ্যের রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
চেয়ারম্যানের মতে, তিনি দুই ঘণ্টা বন্দর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং জানিয়েছেন, গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক, কোনো বাধা নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি কিছু কর্মচারীকে ‘বিপথগামী’ বলে উল্লেখ করে, তাদের কাজের পদ্ধতি রাষ্ট্র ও জনগণের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
টার্মিনাল লিজ সংক্রান্ত আলোচনায়, চেয়ারম্যান উল্লেখ করেছেন যে এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি এবং দর-কষাকষি চলমান। এই চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত টার্মিনাল ইজারার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।
ধর্মঘটের পূর্বে, ৩১ জানুয়ারি থেকে তিন দিন ধারাবাহিকভাবে আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল এবং মঙ্গলবার থেকে ধারাবাহিক কর্মবিরতি চালু ছিল। তবে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছিল। স্থগিতের পরেও, বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে, বন্দর বন্ধের ফলে রপ্তানি-আমদানি কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত খরচের সম্মুখীন হতে পারে, কারণ পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। লজিস্টিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প রুট বা অতিরিক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হতে পারে, যা সামগ্রিক ব্যয় বাড়াবে। এছাড়া, বন্দর কার্যক্রমের অস্থিরতা শিপিং লাইনগুলোর সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে, ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অবস্থার উন্নয়ন নির্ভর করবে শ্রমিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনার ফলাফলের ওপর। যদি টার্মিনাল লিজের চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং শ্রমিকদের দাবিগুলো সমাধান হয়, তবে বন্দর পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসতে পারে। অন্যদিকে, ধর্মঘটের দীর্ঘায়ু বন্দরকে আর্থিক ক্ষতি এবং বাজারের আস্থা হ্রাসের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, চেয়ারম্যানের কার্যক্রম সচল দাবি এবং শ্রমিকদের ধর্মঘটের বাস্তব অবস্থা একে অপরের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। বন্দর কার্যক্রমের পুনরুদ্ধার এবং টার্মিনাল লিজের চূড়ান্ত সমঝোতা দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য জরুরি, আর বর্তমান পরিস্থিতি ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলেছে।



