উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের সাফিকুর রহমানের বাসায় কাজ করা গৃহকর্মী শিশুটি, ১ ফেব্রুয়ারি রাতের গভীরে করা নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের হিয়ারিংয়ে, যেখানে রোববারের হিয়ারিংয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই রোবেল মিয়া আবেদনের ভিত্তিতে রেকর্ড করা হয়।
১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে, সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বিথি এবং দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগমসহ মোট চারজনকে শিশুর নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের পরে ঢাকার নারীর ও শিশুর নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল‑৯-এ পাঠানো হয়, যেখানে শিশুর বাবা গোলাম মোস্তফা মামলাটি দায়ের করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার মামলার তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেন। তদন্তের পর, ট্রাইব্যুনাল‑৯-এ বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়া শিশুর পিতার হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে শুনানির জন্য মামলাটি আদালতে উপস্থাপন করেন।
শিশুর পরিবারকে আইনি সহায়তা প্রদানকারী বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ফাহমিদা আক্তার রিংকি জানান, শিশুটি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় পুনরায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং সুস্থতা নিশ্চিত হওয়ার পর হেফাজত সংক্রান্ত শোনানি হবে।
শিশুর নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবার নামের ওপর মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সাফিকুর রহমানের বাসায় নিরাপত্তা কর্মী জাহাঙ্গীরের অনুরোধে ছোটবেলা থেকে শিশুটিকে দেখাশোনার জন্য গৃহকর্মী খুঁজছিলেন, ফলে গোলাম মোস্তফার সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যায়, বিথি ফোনের মাধ্যমে মোস্তফাকে জানায় যে তার মেয়ে অসুস্থ, তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। মোস্তফা শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিথি শিশুটিকে হস্তান্তর করেন।
মোস্তফা মামলায় জানান, শিশুটির দু’হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। শিশুটি কথাও ঠিকমতো বলতে পারছিল না, কারণ জিজ্ঞাসা করলে বিথি তার উত্তর দিতে পারছিল না।
পরবর্তীতে, শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শিশুটি জানায় যে বাসায় বিভিন্ন সময়ে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হতো, যার মধ্যে মারধর, গরম পানির ছিটিয়ে ধাক্কা এবং শারীরিক আঘাত অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই ঘটনার পর, সরকার সাফিকুর রহমানের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক এমডি ও সিইও পদ থেকে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
আসামিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, তবে তিনজনসহ চারজনের জামিন শোনানির সময়সূচি নির্ধারিত হওয়া সত্ত্বেও এখনো শোনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। মামলাটি এখনও চলমান এবং পরবর্তী আদালত শোনানির তারিখ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে।



