চট্টগ্রাম বন্দর কর্মীদের ধর্মঘটের ব্যাপারে সরকার কঠোর রূপরেখা গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সরকারি কর্মীদের সঙ্গে আলাপের সময় এ কথা প্রকাশ করেন। ধর্মঘটটি একই দিন সকাল আটটায় শুরু হয়, যেখানে শ্রমিকরা বিদেশি সংস্থার কাছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধে এবং চারটি দাবির পূরণে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানায়।
ধর্মঘটের মূল কারণ হল বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কর্মীদের উদ্বেগ, যা দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে তারা দাবি করে। শ্রমিকরা চারটি নির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে টার্মিনালের মালিকানা, কর্মীর নিরাপত্তা, বেতন ও সুবিধা সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত। এই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কাজ বন্ধ রাখবে বলে জানিয়েছে।
বন্দরের উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, কিছু গোষ্ঠী পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে এবং এর ফলে দেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যা, অর্থাৎ ১৮ কোটি মানুষ প্রভাবিত হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অবস্থা চলতে না দেওয়া সরকারের দায়িত্ব এবং ইতিমধ্যে কয়েকজন ধর্মঘটকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি দেরও শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম. মনিরুজ্জামান পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মঘটের পর কর্মচারীরা আবার কাজে ফিরে এসেছে এবং কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। চেয়ারম্যানের মতে, বন্দর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মনিরুজ্জামান রোববার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় বলেন, তিনি সকাল দশটা থেকে দুই ঘণ্টা ধরে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি কর্মীদের কাজের শর্তাবলী, নিরাপত্তা ও বেতন সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা করেন এবং সকলকে শান্তিপূর্ণ কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে আহ্বান জানান।
বন্দরের চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনি নিজে পোস্টাল ব্যালেটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। তিনি সকল কর্মচারী ও কর্মকর্তাকে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন এবং একপক্ষীয় প্রচেষ্টা দ্বারা নির্বাচনকে ব্যাহত করার কোনো পরিকল্পনা না থাকা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, কোনো দল যদি নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়, তবে তা বন্দরকে অস্থির করে তুলতে পারে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি।
এছাড়া, রমজান মাসের আগমনকে ধরা দিয়ে মনিরুজ্জামান সতর্কতা প্রকাশ করেন যে, ধর্মঘটের ফলে বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মঘটের কোনো অব্যাহতিকরণ না ঘটিয়ে রমজানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি।
সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের সতর্কতা মিলিয়ে দেখা যায়, ধর্মঘটের সমাধানে আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যদি ধর্মঘটকারী গোষ্ঠী আবার অবৈধভাবে বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার এবং আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এদিকে, নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং ধর্মঘটের সম্ভাব্য প্রভাব কমাতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিকল্প ব্যবস্থা গৃহীত হবে।



