18 C
Dhaka
Monday, February 9, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনারীর নিরাপত্তা ও নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের আহ্বান

নারীর নিরাপত্তা ও নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের আহ্বান

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জায়মা রহমান, রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইএসএস) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে তাগিদ জানিয়ে বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো জরুরি, যাতে ছাত্র নেতৃত্ব থেকে স্থানীয় সরকার পর্যন্ত একটি শক্তিশালী পথ তৈরি করা যায়।

এই ধারাবাহিকতা না থাকলে যোগ্য নারীর নেতৃত্বকে সামনে আনা কঠিন হবে, জাইমা বলেন। তিনি যুক্তি দেন, রাজনৈতিক ও নাগরিক দায়িত্বে সক্রিয়তা ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা গড়ে ওঠে না, এবং যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা ছাড়া নতুন নেতৃত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। বর্তমানে পুরুষদের জন্য যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা নারীরা এখনও পুরোপুরি পায়নি; তাই নারীর জন্য সমান সংযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অর্থনৈতিক বৈষম্যকে বড় বাধা হিসেবে তুলে ধরে, জাইমা বলেন, নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে আর্থিক বাধা কমাতে বিশেষ সুবিধা ও সহায়তা প্রদান করা উচিত। এ ধরনের পদক্ষেপগুলো নারীর নেতৃত্বের জন্য দরজা খুলে দেবে এবং রাজনৈতিক মঞ্চে তাদের উপস্থিতি বাড়াবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণদের মেধা ব্যবহার করে একটি ভিন্নধর্মী রাষ্ট্র গড়তে হলে চিন্তাধারায় পরিবর্তন আনা অপরিহার্য।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আচরণবিধি (কোড অব কন্ডাক্ট) থাকা দরকার, জাইমা বলেন। এমন নীতিমালা থাকলে কোনো নারী নেতা বা কর্মী যদি হয়রানির শিকার হন, দলটি দায়িত্ব গ্রহণ করে তাদের পাশে দাঁড়াবে। তিনি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধুমাত্র আইনগত ব্যবস্থা নয়, দলীয় সংস্কৃতির অংশ হতে হবে।

সমাজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব, এ কথায় জাইমা তার দৃষ্টিভঙ্গি শেষ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া নারীর নিরাপত্তা ও সমান অংশগ্রহণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন।

প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, রাজনৈতিক দলগুলোকে এই আহ্বানকে বাস্তবায়নযোগ্য নীতি হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি, যাতে নারীর নিরাপত্তা ও নেতৃত্বের ক্ষেত্র উভয়ই শক্তিশালী হয়। দলীয় নেতৃত্বের কাছ থেকে স্পষ্ট পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়ছে, এবং ভবিষ্যতে এই বিষয়টি নির্বাচনী আলোচনার একটি মূল বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বিএনপি ও অন্যান্য প্রধান দলগুলোকে এখনই নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গঠন করতে হবে, যেমন নিরাপদ পরিবহন, হেল্পলাইন এবং হ্যারাসমেন্ট বিরোধী কঠোর শাস্তি। এ ধরনের পদক্ষেপগুলো নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।

অধিকন্তু, নারী নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা উচিত, যাতে তারা রাজনৈতিক মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশ নিতে পারে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে নারীর নেতৃত্বের গুণগত মান উন্নত হবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অবদান বাড়বে।

সেমিনারে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজকর্মীও জাইমার মতামতের সাথে একমত হয়ে বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও সমান অংশগ্রহণের জন্য দলীয় সংস্কৃতি পরিবর্তন অপরিহার্য। তারা জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র আইনগত কাঠামো নয়, দলীয় অভ্যন্তরীণ নীতি ও আচরণবিধি এই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, সরকারও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা চালু করেছে, তবে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় সমর্থন ছাড়া এই পরিকল্পনাগুলো সম্পূর্ণ কার্যকর হবে না। জাইমা উল্লেখ করেন, সরকার ও দল দুজনেরই সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে নারীর নিরাপত্তা ও সমান অংশগ্রহণের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়।

সারসংক্ষেপে, বিএনপি চেয়ারম্যানের কন্যা জাইমা রহমানের এই আহ্বান রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করে, যা নারীর নিরাপত্তা, নেতৃত্বের সুযোগ এবং অর্থনৈতিক সমতা নিশ্চিত করার দিকে কেন্দ্রীভূত। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে এবং দলীয় নীতি গঠনে প্রভাব ফেলবে।

৯৪/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাকপ্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments