20 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজানুয়ারি ২০২৬-এ মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮% এ পৌঁছায়, মধ্যবিত্তের আর্থিক চাপ বাড়ে

জানুয়ারি ২০২৬-এ মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮% এ পৌঁছায়, মধ্যবিত্তের আর্থিক চাপ বাড়ে

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তর রোববার জানিয়েছে যে, জানুয়ারি মাসে মোট মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই হার পূর্ববর্তী দুই মাসের তুলনায় উচ্চতর, যেখানে ডিসেম্বর মাসে ৮.৪৯ শতাংশ এবং নভেম্বর মাসে ৮.২৯ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেশের মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারের আর্থিক ভারকে তীব্রতর করেছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে খাদ্যমূল্যের বৃদ্ধি ৮.২৯ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম ৮.৮১ শতাংশ বেড়েছে। চতুর্থ মাস ধারাবাহিকভাবে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিবিএসের হিসাব থেকে দেখা যায়, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশের মুদ্রাস্ফীতি উচ্চমাত্রায় স্থায়ী রয়েছে।

২০২৫ সালের গড় মূল্যস্ফীতি ৮.৭৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রা মূল্যের অবমূল্যায়নের ইঙ্গিত দেয়। এই ধারাবাহিক উচ্চ হার ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়, ফলে বিক্রয় পরিমাণে পতন দেখা দিতে পারে।

মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে মজুরি বৃদ্ধির পার্থক্যও উদ্বেগের বিষয়। জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার জানুয়ারিতে ৮.০৮ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে বাস্তব আয় হ্রাস পায়, এবং পরিবারগুলোকে ব্যয় কমাতে বাধ্য করে।

মুদ্রাস্ফীতি কমে যাওয়া মানে দাম হ্রাস নয়; এটি কেবলমাত্র মাসিক বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া নির্দেশ করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১০০ টাকা দিয়ে পণ্য ও সেবা কেনা যায়, তবে ২০২৬ সালের একই মাসে একই পণ্য ক্রয়ের জন্য ১০৮.৫৮ টাকা প্রয়োজন হবে। প্রতি ১০০ টাকায় অতিরিক্ত ৮.৫৮ টাকা ব্যয় বাড়ে, যা গৃহস্থালীর বাজেটকে চাপ দেয়।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ভোক্তা পণ্যের চাহিদা কমিয়ে ব্যবসায়িক আয় হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ায়। উৎপাদন খরচ বাড়ার ফলে কোম্পানিগুলো মূল্য বৃদ্ধি বা মুনাফা কমাতে পারে, যা বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতা তীব্র করে। অধিকাংশ খুচরা বিক্রেতা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এখন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে।

নতুন সরকার নির্বাচনের পর সাড়ে আট শতাংশের বেশি মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলা করতে হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জের সমাধান না হলে দারিদ্র্য হ্রাস, ক্রয়ক্ষমতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন হবে। অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারকদের জন্য মুদ্রা সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ শৃঙ্খলা শক্তিশালীকরণ এবং মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকার হবে।

ব্যবসা খাতের দৃষ্টিকোণ থেকে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি কাঁচামাল ও শ্রমিকের খরচ বাড়ায়, যা উৎপাদন খরচে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অনেক শিল্পে উৎপাদন পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে, যাতে মুনাফা বজায় রাখা যায়। অন্যদিকে, কিছু রপ্তানি-নির্ভর সেক্টর মুদ্রাস্ফীতির ফলে রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে উপকৃত হতে পারে।

ভোক্তাদের জন্য, বাড়তি দাম দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদা—খাবার, পোশাক, যাতায়াত—এ কাটছাঁটের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। অনেক পরিবার অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি নিতে পারে, যা আর্থিক অস্থিরতা বাড়ায়। সামাজিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রোগ্রামগুলো এই সময়ে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা এবং মজুরি বৃদ্ধির পার্থক্য বিবেচনা করে, নীতি নির্ধারকদের উচিত বাস্তব আয় রক্ষা করার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ। মূল্য নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ শৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং শ্রম বাজারের সমন্বয় এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।

সারসংক্ষেপে, জানুয়ারি ২০২৬-এ মোট মূল্যস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় ধারাবাহিক বৃদ্ধি নির্দেশ করে। খাদ্য ও অ-খাদ্য উভয় ক্ষেত্রেই দাম বাড়ার ফলে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আ

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments