রাঙ্গামাটি জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ভোটারবক্স ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সরবরাহ কাজ গতকাল সকাল থেকে শুরু হয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিসের নির্দেশে ২০টি অপ্রবেশযোগ্য কেন্দ্রকে হেলিসোর্টি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভোটারদের সময়মত সেবা নিশ্চিত করা।
ডেপুটি কমিশনার নাজমা আশরাফি জানান, সকাল ৯টা থেকে হেলিকপ্টারগুলো ভোটারবক্স, প্রেসিডেন্ট ও সহকারী প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে রাঙ্গামাটির নির্দিষ্ট দূরবর্তী কেন্দ্রে উড়ে গিয়েছে। এই প্রথম পর্যায়ে বারকাল উপজেলা থেকে দুইটি, জুরাইচরি থেকে একটি এবং বেলাইচরি থেকে একটি কেন্দ্র সেবা পেয়েছে।
মোট ২১৩টি ভোটারবক্সের মধ্যে ২০টি কেন্দ্রকে রাস্তায় বা জলের পথে পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় হেলিকপ্টার দিয়ে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী ৭ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ২০টি হেলিসোর্টি কেন্দ্রে সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও কর্মী পৌঁছে দেওয়া হবে।
রাঙ্গামাটি জেলার মোট ভোটারসংখ্যা ৫,০৯,২৬৭, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২,৬৩,৪১০, নারী ভোটার ২,৪৫,৮৫৫ এবং হিজড়া ভোটার দুইজন। এই ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩০,০০০ জন ভোটার হেলিসোর্টি কেন্দ্রের আওতায় পড়ে, যাদের জন্য এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
হেলিসোর্টি কেন্দ্রগুলোর ভৌগোলিক বণ্টনও উল্লেখযোগ্য; বৃহত্তম উপজেলা বাঘাইচারিতে ছয়টি, বারকালের দুইটি, জুরাইচরিতে সাতটি এবং বেলাইচরিতে পাঁচটি কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো পাহাড়ি ও নদী পারাপারের জটিলতা কারণে রোডে পৌঁছানো কঠিন, তাই হেলিকপ্টার ব্যবহারই একমাত্র কার্যকর সমাধান।
ডেপুটি কমিশনার নাজমা আশরাফি উল্লেখ করেন, “হেলিকপ্টারগুলো ভোটারবক্স ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সকাল ৯টা থেকে রওনা হয়েছে” এবং এই প্রাথমিক পদক্ষেপের মাধ্যমে শেষ মুহূর্তে কোনো লজিস্টিক সমস্যার সম্ভাবনা কমিয়ে আনা হবে।
বিপিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই পদক্ষেপকে ভোটারদের সুষ্ঠু অংশগ্রহণের জন্য ইতিবাচক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, হেলিকপ্টার ব্যবহারের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় ভোটারদের ভোটদান সহজ হবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। তবে কিছু দল এখনও শেষ মুহূর্তে সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সমস্যার প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে রাঙ্গামাটির কঠিন ভূখণ্ডে ভোটারদের সময়মত সেবা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। হেলিকপ্টার দ্বারা দ্রুত সরবরাহের ফলে ভোটারবক্সের নিরাপত্তা ও সময়মত স্থাপন সম্ভব হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোটার টার্নআউট বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, হিল ট্র্যাক্টসের মত জটিল ভৌগোলিক এলাকায় এই ধরনের লজিস্টিক ব্যবস্থা না থাকলে ভোটারদের অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই হেলিকপ্টার ব্যবহার নির্বাচন প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অধিকন্তু, এই প্রস্তুতি রাঙ্গামাটির নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ ভোটারদের সহজে ভোটদান করার সুযোগ পেলে তাদের অংশগ্রহণের হার বাড়বে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সামগ্রিকভাবে, রাঙ্গামাটির হেলিসোর্টি কেন্দ্রগুলোতে হেলিকপ্টার দিয়ে ভোটারবক্স ও কর্মী সরবরাহের কাজ নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী চার দিন (৭-১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত এই কাজ সম্পন্ন হলে, নির্বাচনের দিন কোনো লজিস্টিক বাধা ছাড়াই ভোটারদের সেবা প্রদান সম্ভব হবে।



