জাতীয় নির্বাচনের পূর্বদিন ১১ ফেব্রুয়ারি দেশের জুড়ে দীর্ঘ দূরত্বের বাসগুলো চালু থাকবে, তবে ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি অধিকাংশ রুটে সেবা বন্ধ থাকবে বলে পরিবহন সংস্থাগুলো জানিয়েছে। ভোটের দিন কোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, কর্মীদের ভোটদান করার জন্য ছুটি নেওয়ার কারণে সেবার পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় নির্বাচনের জন্য গাড়ি চলাচলের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপের নোটিশ প্রকাশ করেছে। নোটিশ অনুযায়ী, ট্যাক্সি, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাকগুলো ভোটের দিন ২৪ ঘণ্টা চলাচল থেকে বাদ থাকবে। এছাড়া, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে, একই নোটিশে বাসের চলাচল নিয়ে কোনো সীমা আরোপ করা হয়নি।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক মালিকদের সমিতির চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ উল্লেখ করেছেন, ১১ ফেব্রুয়ারি বাস চলবে, তবে এখনও টিকিটের চাহিদা বেশি নয়। তিনি আরও জানান, ১০ ফেব্রুয়ারির টিকিটের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি। ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, অধিকাংশ কর্মী ভোটের জন্য ছুটি নেবে, ফলে সেবা রাতের পর ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় চালু হতে পারে।
ঢাকা‑নেত্রকোনা রুটে রাফ রাফ পারিবহনও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা ১১ ফেব্রুয়ারি রুটে বাস চালু রাখবে, তবে ১২ ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণভাবে সেবা বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তগুলো ভোটারদের গমনাগমনের সময়সূচি ও ভ্রমণ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীদের জন্য।
মন্ত্রণালয়ের নোটিশে উল্লেখিত মোটরসাইকেল চলাচল সীমাবদ্ধতা ১০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা বজায় থাকবে, যা শহর ও গ্রামাঞ্চলের মধ্যে সংযোগকে কিছুটা কঠিন করে তুলবে। তবে, বাসের চলাচল অব্যাহত থাকায়, দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।
পরিবহন সংস্থাগুলো ভোটের পর রাতের দিকে সেবা পুনরায় চালু করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, তবে তা ভোটের ফলাফল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। নির্বাচনের দিন গৃহীত এই ব্যবস্থা ভোটারদের নিরাপদে গমনাগমন নিশ্চিত করার পাশাপাশি, ভোটদান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, ভোটের দিন বাসের চলাচল সীমাবদ্ধ না থাকলেও কর্মী ছুটির কারণে সেবার পরিমাণ হ্রাস পাবে, আর ট্যাক্সি, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রোবাস এবং ট্রাকের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এই নীতি ভোটারদের গমনাগমনকে প্রভাবিত করতে পারে, তবে সরকার ও পরিবহন সংস্থার সমন্বয়মূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলবে।



