রোববার দুপুরে ঢাকা সিভিল এভিয়েশন ও ট্যুরিজম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বশিরউদ্দীন, মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে নামিয়ে ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
বর্তমান শুল্ক কাঠামোতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ইতিমধ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপিত, ফলে মোট শুল্কের হার ৩৫ শতাংশ ছিল। নতুন চুক্তি অনুযায়ী এই হার ২০ শতাংশে হ্রাস পাবে, যা রপ্তানি খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বয়ে আনবে।
বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, চুক্তিতে আরও শুল্ক হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত হবে এবং মূল রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টসের ওপর শুল্ক শূন্য করার লক্ষ্য রয়েছে।
চুক্তির শর্তাবলী সম্প্রতি ফাঁস হওয়ায় বাংলাদেশ সরকারকে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে। বশিরউদ্দীন জানান, ৩৭ শতাংশের শুল্ককে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, এবং যদি এই শর্তগুলো প্রকাশ না হতো তবে আরও কম শুল্ক পাওয়া সম্ভব হতে পারত।
বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে যেখানে এই চুক্তির শর্তগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা বাংলাদেশকে কিছুটা বিব্রত করেছে। তবুও সরকার দাবি করে, শর্তগুলো প্রকাশের পরেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় শুল্ক হ্রাসের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ৬২৬টি পণ্যের ওপর শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে ১১০টি পণ্যের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা স্থানীয় শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মার্কিন সরকারের দাবি অনুযায়ী, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে। এদিকে বাংলাদেশ সরকার বিমান শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে, মার্কিন এয়ারক্রাফ্ট নির্মাতা বোয়িং থেকে বিমান ক্রয় এবং গম, সয়াবিন তেল, তুলা ইত্যাদি পণ্যের আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।
বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান বাণিজ্যিক বিমান বহর ১৯টি, যার মধ্যে মাত্র ১৪টি কার্যকর। তিনি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট ৪৭টি বিমান চালু করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক ও গৃহস্থালী রুটের চাহিদা পূরণ করা যায়।
বিমান বহরের সম্প্রসারণের পাশাপাশি, সরকার বিমান নেটওয়ার্ক ও মাস্টারপ্ল্যানের পুনর্গঠনেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিকল্পনা দেশের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়িয়ে, রপ্তানি-আমদানি খাতে সময়মত লজিস্টিক সেবা নিশ্চিত করবে।
শুল্ক হ্রাসের ফলে গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে গেলে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, শুল্ক হ্রাসের ফলে সরকারী রাজস্বে সাময়িক হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বশিরউদ্দীন জোর দিয়ে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বর্ধিত রপ্তানি ও বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসের মাধ্যমে আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি শুল্ক হ্রাস, পণ্য ছাড় এবং বিমান শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে শুল্ক নীতি ও বাণিজ্যিক কৌশলগুলো কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



