ঢাকা – ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের গতি গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীর হয়েছে, এ বিষয়ে সর্বশেষ পণ্য ব্যবস্থাপনা সূচক (PMI) প্রকাশ করেছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (MCCI) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (PEB) সমন্বিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এই সূচকটি ৫০-এর উপরে থাকলেও পূর্বের মাসের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
PMI-র মান জানুয়ারিতে ৫৩.৯ এ নেমে এসেছে, যা পূর্বের মাসের ৫৪.২ থেকে ০.৩ পয়েন্ট কম। এই সংখ্যা নির্দেশ করে যে, অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি কিছুটা শিথিল হয়েছে, যদিও এখনও বিস্তারের সীমার মধ্যে রয়েছে।
সামঞ্জস্যের জন্য দেখা যায়, জুন ২০২৫-এ PMI ৫৩.১ ছিল, ফলে জানুয়ারি ২০২৬-এ সূচকটি ঐ সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি, তবে গত ছয় মাসের গড়ের তুলনায় সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
সামগ্রিকভাবে, কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতের ধারাবাহিক বৃদ্ধির ফলে মোট অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বিস্তারের অঞ্চলে রয়ে গেছে। তবে প্রতিটি খাতের গতি ভিন্ন রকমের পরিবর্তন দেখাচ্ছে।
কৃষি খাতে ধারাবাহিক পাঁচ মাসের বিস্তার রেকর্ড হয়েছে, তবে বৃদ্ধির হার ধীর হয়েছে। শীতকালীন ধান ফসলের কাটার পর ফলন হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা কৃষি উৎপাদনের গতি হ্রাসের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নতুন ব্যবসা ও সামগ্রিক ব্যবসায়িক কার্যকলাপেও সম্প্রসারণের প্রবণতা বজায় আছে, তবে কর্মসংস্থান ও ইনপুট খরচে হ্রাস দেখা গেছে। শ্রম বাজারে সংকোচন এবং কাঁচামালের দাম কমে যাওয়ায় খরচের চাপ হ্রাস পেয়েছে।
অর্ডার ব্যাকলগের ক্ষেত্রে, যদিও এখনও সংকোচনের দিকে রয়েছে, তবে হ্রাসের গতি ধীর হয়েছে, যা চাহিদার চাপের হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়।
উৎপাদন খাতের ক্ষেত্রে, ধারাবাহিক ১৭তম মাসে বিস্তার বজায় আছে, তবে ডিসেম্বরের তুলনায় বৃদ্ধির গতি হ্রাস পেয়েছে। নতুন অর্ডার, কারখানা আউটপুট, আমদানি, ইনপুট মূল্যের বৃদ্ধি এবং সরবরাহকারীর ডেলিভারির গতি সবই সম্প্রসারণের দিকেই রয়েছে।
অন্যদিকে, নতুন রপ্তানি, ইনপুট ক্রয়, সমাপ্ত পণ্যের মজুদ এবং কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা এবং অর্ডার স্থগিত করার প্রবণতার ফলে উৎপাদন খাতে সতর্কতা বাড়িয়েছে। অর্ডার ব্যাকলগের পরিমাণ আবার বিস্তারের দিকে ফিরে এসেছে।
নির্মাণ খাতের ক্ষেত্রে, যদিও ডিসেম্বর মাসে সংকোচন দেখা গিয়েছিল, তবে জানুয়ারিতে পুনরায় সম্প্রসারণের সূচনা হয়েছে, যা অবকাঠামো প্রকল্পের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনরুদ্ধার ধীর এবং অর্ডার স্থগিত করার প্রবণতা উৎপাদন রপ্তানিকে প্রভাবিত করছে, ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি হ্রাস পেয়েছে। কৃষি খাতেও শীতকালীন ফসলের কাটার পর উৎপাদন হ্রাসের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা পরবর্তী মাসে কৃষি বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রবণতা বজায় থাকলে, পরবর্তী ত্রৈমাসিকে উৎপাদন ও রপ্তানির গতি আরও সতর্ক হতে পারে, তবে বিস্তারের মৌলিক কাঠামো এখনও রয়ে গেছে।



