ঢাকার একটি হোটেলে রবিবার সকালে অনুষ্ঠিত ‘অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিডি‑এর সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের অবসানের ইঙ্গিত দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার যে সীমা পর্যন্ত সংস্কার ও বিচার‑বিবেচনা করতে পারত, তা এখন অতিক্রান্ত হয়েছে এবং আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপের জায়গা বাকি নেই।
অনুষ্ঠানটি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজন করে এবং এতে বিভিন্ন বিশ্লেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ভট্টাচার্য এই মঞ্চে বলেন, বর্তমান সরকারের ক্ষমতা ও সম্ভাবনা শেষ সীমায় পৌঁছেছে; এখন যা করা সম্ভব তা হল একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা।
সিজিএস সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটগ্রহণে বাধা সনাক্ত করতে ৫০৫ জন সদস্যের উপর জরিপ চালায়। জরিপের লক্ষ্য ছিল ভোটারদের নিরাপত্তা, তথ্যপ্রাপ্তি এবং প্রক্রিয়াগত বাধা সম্পর্কে ধারণা সংগ্রহ করা। ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা এই তথ্যগুলোকে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির সূচক হিসেবে বিশ্লেষণ করেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের সময় অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া প্রায় এক চতুর্থাংশ উত্তরদাতা নিজেদেরকে অনিরাপদ বা অত্যন্ত অনিরাপদ বলে উল্লেখ করেছেন। এই সংখ্যা সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার মাত্রা নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর আলোচনায় দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব কাজের সমন্বয় নেই। তিনি বলেন, ধর্মবর্ণ‑নির্বিশেষে সকল নাগরিককে এক ছাতার নিচে রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে বাস্তবে সেই ছাতা এখনও খোলা হয়নি এবং বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছে। এই রূপকটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সমতা ও নিরাপত্তার অভাবকে তুলে ধরে।
ভট্টাচার্য আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এখনো সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, তবে এতে অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও রয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারী, সংখ্যালঘু গোষ্ঠী এবং ভিন্নমতধারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভোটে অংশ নেওয়ার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
এই মন্তব্যের পটভূমিতে সিজিএসের জরিপের ফলাফল রয়েছে, যা দেখায় সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও তথ্যের অভাবের কারণে অংশগ্রহণের ইচ্ছা কমে যাচ্ছে। ভট্টাচার্য এই তথ্যকে ভিত্তি করে সরকারকে ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি যে ধারণা প্রকাশ করেছেন, তা দেশের রাজনৈতিক চক্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করে। তিনি উল্লেখ করেন, এখন সময় এসেছে স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করার।
ভোটের ফলাফল যদি অন্তর্ভুক্তি ও নিরাপত্তার দিক থেকে সন্তোষজনক না হয়, তবে তা ভবিষ্যৎ সরকারের বৈধতা ও নীতিগত দিকনির্দেশে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সকল রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনিক সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও সমান ও নিরাপদ করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার হ্রাস এবং এখনো বাকি থাকা একমাত্র কার্যকর উপায়—একটি ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন—উল্লেখ করে, সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা উদ্বেগকে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তির মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নকে দেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নের মূল সূচক হিসেবে দেখা হবে।



