20 C
Dhaka
Thursday, March 19, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাজানুয়ারি মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৮.৫৮% এ বৃদ্ধি, খাবারের দাম তীব্রভাবে বাড়ে

জানুয়ারি মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৮.৫৮% এ বৃদ্ধি, খাবারের দাম তীব্রভাবে বাড়ে

বাংলাদেশে জানুয়ারি মাসে মুদ্রাস্ফীতি তৃতীয় মাস ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্ব মাসের ৮.৪৯ শতাংশের তুলনায় সামান্য বাড়তি। এই তথ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান অধিদপ্তর প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে প্রাপ্ত। মুদ্রাস্ফীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে খাবারের দামের তীব্র উত্থান চিহ্নিত হয়েছে।

খাবার মূল্যের সূচক জানুয়ারিতে ৮.২৯ শতাংশে উঠে এসেছে, যা ডিসেম্বরের ৭.৭১ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। চাল, তেল, শাকসবজি এবং মিষ্টি পণ্যের দাম বাড়ার ফলে গৃহস্থালির ব্যয় চাপ বাড়ছে। এই প্রবণতা মৌসুমী চাহিদা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতা থেকে উদ্ভূত।

অন্যদিকে, অ-খাবার পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৮.৮১ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ডিসেম্বরের ৯.১৩ শতাংশের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। পোশাক, পরিবহন, বাসস্থান এবং অন্যান্য সেবার দামে সামান্য কমতি দেখা গেছে। এই হ্রাস কিছুটা ভোক্তাদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে।

নভেম্বর মাসে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি ৮.২৯ শতাংশ এবং অক্টোবর মাসে ৮.১৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে ৮ শতাংশের উপরে থাকা সূচকটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

খাবারের দামের দ্রুত বৃদ্ধি গৃহস্থালির বাজেটকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য। মৌলিক পণ্যের দাম বাড়ার ফলে দৈনন্দিন খরচের অংশ বড় অংশে পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে।

খুচরা বাজারে মূল্যের উত্থান বিক্রেতাদের মুনাফা মার্জিনকে সংকুচিত করেছে, ফলে কিছু বিক্রেতা বিক্রয়মূল্য কমাতে বাধ্য হয়েছে। তবে, উচ্চ চাহিদা বজায় থাকায় বিক্রয় পরিমাণে বড় পতন দেখা যায়নি।

পরিবহন খাতে জ্বালানি দামের বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট, যা যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়িয়ে তুলেছে। বাসস্থান ভাড়া ও ইউটিলিটি বিলেও সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যদিও অ-খাবার সূচক হ্রাসের ফলে সামগ্রিক চাপ কিছুটা কমেছে।

মুদ্রাস্ফীতি ধারাবাহিকভাবে উচ্চ স্তরে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি নির্ধারণে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে। সুদের হার সমন্বয় বা রিজার্ভ রেশিও বাড়ানোর সম্ভাবনা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদিও তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে সরকার মূলধন পণ্য ও কৃষি সেক্টরে সরবরাহ বাড়িয়ে দামের অস্থিরতা কমাতে পদক্ষেপ নিতে পারে। তদুপরি, ভোক্তা সুরক্ষা নীতি শক্তিশালী করা জরুরি।

আসন্ন মাসগুলোতে খাবারের দামের প্রবণতা কীভাবে চলবে তা অনিশ্চিত, কারণ মৌসুমী বৃষ্টিপাত, আন্তর্জাতিক তেল দামের ওঠানামা এবং মুদ্রা বিনিময় হার পরিবর্তন মূল ভূমিকা রাখবে। এই উপাদানগুলো মুদ্রাস্ফীতির দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সারসংক্ষেপে, জানুয়ারি মাসে মুদ্রাস্ফীতি ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে, খাবারের দামের তীব্র উত্থান মূল চালিকাশক্তি, আর অ-খাবার দামের হ্রাস কিছু স্বস্তি দেয়। বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে নীতি সমন্বয় ও সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য।

বাজারের অংশগ্রহণকারীরা মূল্যের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করে ক্রয় পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করছে। রিটেইল চেইনগুলো প্রোমোশন ও ডিসকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহক আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে, উৎপাদনকারী সংস্থাগুলো কাঁচামাল সংগ্রহে বিকল্প উৎস অনুসন্ধান করছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments