চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে ধর্মঘটের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে চায়, এ বিষয়টি নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন রবিবারের প্রেসব্রিফিং-এ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বন্দরকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে রাখতে চাওয়া কিছু গোষ্ঠীর চাপ বাড়ার ফলে সরকার এখন কঠোর নীতি অনুসরণ করবে।
উপদেষ্টা জানান, বন্দরকে জিম্মি রাখার চেষ্টা করা কয়েকজনের দাবিগুলো ক্রমশ বাড়ছে এবং এদের লক্ষ্য পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। তিনি এ ধরনের চাপে দেশের ১৮ কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রভাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান, তবে কোম্পানি অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ করেছে। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রধান উপদেষ্টা একটি চিঠিতে সময় বাড়ানোর আবেদন পাঠিয়েছেন এবং সরকার এই বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে বন্দর সংক্রান্ত বিরোধ বাড়ার ফলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রশ্ন তোলা হয়েছে। উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, সরকার কোনো ধরনের নির্বাচন মনিটরিংয়ে জড়িত নয়, তবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়ে গেছে। তিনি নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়টি নজরে রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন।
বন্দরের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উপদেষ্টা জানান। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকি সন্দেহভাজনদেরও শীঘ্রই আটক করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পোর্ট চালু রাখতে বাধা দেয়া যে কোনো কাজের জন্য কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বন্দর পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। উপদেষ্টা রমজানকে সামনে রেখে বন্দর বন্ধের ফলে সৃষ্ট অসুবিধা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বন্দরকে জিম্মি রাখা কোনো দলই তাদের দাবি পূরণে বাধ্য নয় এবং সঠিক ক্ষতিপূরণ ও সমঝোতা চুক্তি অনুসারে কাজ করা হবে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের চিঠিতে উল্লেখিত সময় বাড়ানোর অনুরোধের পাশাপাশি, সরকার বন্দর সংক্রান্ত সব দাবির স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে চায়। উপদেষ্টা বলেন, আলোচনার সময়সীমা বাড়লেও বন্দর পুনরায় চালু করার লক্ষ্য অপরিবর্তিত থাকবে এবং সকল পক্ষের সমন্বয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে।
অবশেষে, সরকার বন্দরকে পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ধর্মঘটের মাধ্যমে জনসাধারণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে চাওয়া কোনো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বন্দর কার্যক্রমের স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে এবং দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।



