রবিবার দুপুরে, ১১টি নারী ও শ্রমিক সংগঠন আগারগাঁও, নির্বাচন কমিশন ভবনে একত্রিত হয়ে শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানাতে স্মারকলিপি উপস্থাপন করে। শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, সম্প্রতি তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে কর্মজীবী নারীদের লক্ষ্য করে একাধিক অবমাননাকর মন্তব্য করেন, যা সংগঠনগুলোকে নিন্দা করতে বাধ্য করে। তারা দাবি করে যে, ঐ মন্তব্যগুলো নারীর শ্রম, মর্যাদা ও সামাজিক ভূমিকার প্রতি সরাসরি অবহেলা প্রকাশ করে এবং সংবিধানিক সমতা ও মানবাধিকারের বিরোধী। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য দেশের গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত নারীদের অবদানের প্রতি অবমূল্যায়ন ঘটায়।
সংগঠনগুলো উল্লেখ করে, শফিকুর রহমানের মন্তব্যগুলোকে ‘চরম অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং তা নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। তারা তর্ক করে যে, দলটি মন্তব্যগুলোকে ‘হ্যাকিং’ ফলাফল বলে অস্বীকার করলেও, ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত কোনো বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমানে পর্যন্ত কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত বা প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি, যদিও হ্যাকিং‑সংক্রান্ত মামলায় এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়।
শফিকুর রহমানের দল মন্তব্যগুলোকে হ্যাকিং ফলাফল বলে অস্বীকারের পরেও, সংগঠনগুলো দাবি করে যে, এ ধরনের ব্যাখ্যা নারীর অধিকার রক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ নয়। তারা উল্লেখ করে, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন শিল্পে কর্মরত নারীরা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, এবং তাদের অবদান অবমূল্যায়ন করা সমাজে নারীর প্রতি ঘৃণা ও বৈষম্যের সংস্কৃতি উসকে দিতে পারে।
স্মারকলিপিতে চারটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়েছে: (১) অবমাননাকর মন্তব্যগুলো অবিলম্বে প্রত্যাহার, (২) কর্মজীবী নারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, (৩) ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার, এবং (৪) নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থা। এই দাবিগুলো সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে, নারীর মর্যাদা রক্ষার জন্য একসঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর, সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন। বৈঠকের শেষে, প্রতিনিধিদলের একজন সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় নারীর ওপর আক্রমণ বাড়ছে এবং তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ন করে। তারা ইসির কাছে অনুরোধ করেন, প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের নারীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে।
ইসির পক্ষ থেকে বৈঠকের পর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে সংগঠনগুলো দাবি করে যে, ইসি প্রাসঙ্গিক কোড অনুসারে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। তারা আরও উল্লেখ করে, যদি প্রার্থিতা বাতিল না হয়, তবে নারীর অধিকার রক্ষার জন্য আইনি ও সামাজিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে।
এই ঘটনার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন যে, শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের সম্ভাবনা জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে নারীর ভোটারদের সমর্থন বজায় রাখতে দলকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে, নারীর অধিকার সংরক্ষণে সক্রিয় সংগঠনগুলোর চাহিদা রাজনৈতিক দায়িত্ববোধকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই স্মারকলিপি জমা এবং ইসির সঙ্গে বৈঠক নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের ওপর নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।



