অন্তর্বর্তী সরকার হজ মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে যে, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে ফেরত আসা হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীর সিটও উপলব্ধ হবে। টিকিটের মূল্য ২০,০০০ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বের তুলনায় কম দামের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য প্রবেশযোগ্যতা বাড়াবে।
বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই সিদ্ধান্তের পেছনের নীতি ও আর্থিক প্রভাব তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ব্যবস্থা বিমান সংস্থার জন্য অতিরিক্ত ১২০ কোটি টাকার আয় নিশ্চিত করবে, যা দেশের বিমান শিল্পের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ফ্লাইটের টিকিটের দাম ২০,০০০ টাকা নির্ধারণের মূল উদ্দেশ্য হল হজযাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও সাশ্রয়ী মূল্যে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নিশ্চিত করা। এই মূল্য নির্ধারণের ফলে হজ মৌসুমে প্রত্যাশিত যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং বিমান সংস্থার লোড ফ্যাক্টর উন্নত হবে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, হজ মৌসুমে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের চাহিদা সাধারণত শীর্ষে থাকে, তাই এই সাশ্রয়ী টিকিটের মাধ্যমে বিমান সংস্থাগুলি অতিরিক্ত ক্যাবিন স্পেস বিক্রি করে আয় বাড়াতে পারবে। তদুপরি, বিদেশি মুদ্রা আয় বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, ১২০ কোটি টাকার অতিরিক্ত আয় সরাসরি বিমান সংস্থার নগদ প্রবাহে প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যৎ ফ্লিট আপগ্রেড, রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মান উন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই আর্থিক বুস্ট শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন একই সঙ্গে জানান, তিনি দায়িত্ব ত্যাগের আগে সম্পদের বিবরণী জমা দেবেন এবং সরকারি সম্পদ যেমন গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি কোনো সুবিধা গ্রহণ করেননি। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার না করার কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, তার সম্পদের বিবরণী ইতিমধ্যে প্রস্তুত রয়েছে।
ডিজিটাল জালিয়াতি রোধে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে বিমান পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল ফ্লাইট বুকিং, টিকিট বিক্রয় ও আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাইবার হুমকি থেকে রক্ষা পাওয়া।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে হজ মৌসুমে এই নীতি দুই ধরণের ঝুঁকি বহন করে। প্রথমত, টিকিটের দাম কম হলে মুনাফা মার্জিন সংকুচিত হতে পারে, বিশেষ করে জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা বিবেচনা করলে। দ্বিতীয়ত, হজ যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাজারের বৈচিত্র্য হ্রাস করতে পারে, ফলে অন্য মৌসুমে চাহিদা কমে গেলে আয় হ্রাসের সম্ভাবনা থাকে।
তবে, বর্তমান পরিকল্পনা সফল হলে বিমান সংস্থাগুলি হজ মৌসুমের পরেও সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক রুটের সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারবে। নিয়মিত যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী টিকিটের উপস্থিতি বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে এবং দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহক ভিত্তি শক্তিশালী করবে।
সারসংক্ষেপে, সরকার হজ মৌসুমে ফেরত ফ্লাইটে সাধারণ যাত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বিমান শিল্পের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণ খরচ কমিয়ে জনগণের সুবিধা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে সম্পদ স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা ও টেকসই বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।



