চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে চলমান ধর্মঘটের ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থা সমাধানে সরকার কঠোর নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম. সাখাওয়াত হোসেন রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উপদেষ্টা জানান, কিছু গোষ্ঠী পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে, যা দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য হুমকি স্বরূপ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখনো পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপের পরিধি বাড়িয়ে কঠোর নীতি অনুসরণ করবে।
ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক সরকারকে একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। চিঠিতে বন্দর সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদনের জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দরকষাকষি প্রক্রিয়া যদি প্রয়োজন হয় তবে নির্বাচনের পরেও চালিয়ে যাবে।
সাখাওয়াত হোসেনের মতে, বন্দর সংক্রান্ত আলোচনায় সময়সীমা বাড়ানো হলে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বন্দরকে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহের জন্য অপরিহার্য।
বন্দরের অচলাবস্থা দেশের রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রমে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে রপ্তানিকৃত পণ্যের রপ্তানি ও আমদানিকৃত কাঁচামালের সরবরাহে বিলম্ব দেখা দিচ্ছে, যা শিল্পখাতে ক্ষতি বাড়িয়ে তুলছে। সরকার এই ক্ষতি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চায়।
অধিকন্তু, ধর্মঘটের পেছনে থাকা গোষ্ঠীর দাবি ও লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের মূল উদ্দেশ্য বন্দর পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি ও শর্তাবলীর পুনর্বিবেচনা।
সামনের দিনগুলোতে সরকার ধর্মঘটের মূল দায়িত্বশীলদের ওপর আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইতিমধ্যে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য সরকারিক দলিলপত্র ও চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারিক প্রতিনিধিরা নতুন শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
এই পদক্ষেপের ফলে বন্দর সংক্রান্ত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে সরকারী দৃষ্টিতে, বন্দরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বন্দর সংক্রান্ত এই কঠোর নীতি সরকারের ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি অংশ এবং নির্বাচনী সময়সীমা নিকটবর্তী হওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবও থাকতে পারে। তবে সরকার স্পষ্টভাবে বলেছে, বন্দর সমস্যার সমাধানকে রাজনৈতিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত করা হবে না।
পরবর্তী ধাপে, সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধের উত্তর দেবে এবং প্রয়োজনীয় শর্তাবলী নির্ধারণ করবে। দরকষাকষি সফল হলে বন্দর পুনরায় কার্যকর হবে এবং দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
সর্বশেষে, সরকার ধর্মঘটের মূল দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি বন্দর পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বন্দর সংক্রান্ত অস্থিরতা কমে দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের উন্নতি আশা করা যায়।



