ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজ বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। দুজনের বৈঠকটি মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, যেখানে দূতাবাসের প্রতিনিধিরা দু’জনের কথোপকথনকে সফল ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন।
বৈঠকের সময় উভয় পক্ষই বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু বর্তমানে প্রকাশ করা হয়নি।
দূতাবাসের পোস্টে ক্রিস্টেনসেনের মন্তব্যকে পুনর্লিখন করলে দেখা যায়, তিনি তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠককে উভয় দেশের সম্পর্কের মূল দিকগুলো পরিষ্কার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে পৌঁছে, যেখানে তিনি রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সামনে তার দূতত্বের শংসাপত্র উপস্থাপন করেন। শংসাপত্র গ্রহণের পর তিনি দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন।
শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে শংসাপত্র গ্রহণের পর ক্রিস্টেনসেনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎ ছিল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। এতে উভয় পক্ষই ২০২৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এরপর দূতটি হোম উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়, বিশেষ করে সীমানা নিরাপত্তা এবং সাইবার হুমকি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলাপ করেন। একই সময়ে তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং শিক্ষা বিনিময় প্রোগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন।
এই বৈঠকগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের সময়ে উভয় দেশের সমর্থন ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। দূতাবাসের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক চুক্তি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবিক সহায়তা প্রকল্পগুলোকে গতি দেওয়া হবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ধারাবাহিক সফর এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকগুলোকে বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক মঞ্চে অবস্থান শক্তিশালী করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বৈঠকের পর ক্রিস্টেনসেনের দল মার্কিন দূতাবাসের সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে অতিরিক্ত কোনো বিবরণ শেয়ার করেনি, তবে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচনের জন্য আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।



