26 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি ইসির সামনে নিবন্ধন দাবিতে মানববন্ধন

বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি ইসির সামনে নিবন্ধন দাবিতে মানববন্ধন

রবিবার, বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের সামনে মানববন্ধন গঠন করে নিবন্ধন অনুমোদনের চূড়ান্ত শেষ তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণের দাবি জানায়। দলটি জানিয়েছে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পার্টি নিবন্ধন না হয়, তবে রাজপথে বিশাল আন্দোলন গড়ে তুলবে।

দলটির সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম মানববন্ধনের সময় স্পষ্ট করে বলেন, “দেশের মানুষের স্বার্থে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে, যাতে করে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসতে পারে, সেজন্য আমরা ছাড় দিচ্ছি। আমরা আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিবন্ধন না দিলে রাজপথে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

মানববন্ধনের সময় উপস্থিত কর্মীরা “হুদা গেছে যেই পথে, নাসির যাবে সেই পথে”, “নিবন্ধন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে” ইত্যাদি স্লোগান উচ্চস্বরে উচ্চারণ করে পার্টির নিবন্ধন চাহিদা জোরদার করে।

এই দাবির পূর্বে, ৩১ জানুয়ারি একই স্থানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে পার্টির কর্মীরা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন ও ইসি সচিব আখতার আহমেদের কুশপুতুলে ডিম নিক্ষেপ করে প্রতিবাদ জানায়। ঐ ঘটনার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

পটভূমিতে দেখা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ১৭ এপ্রিল “বাংলাদেশ আ‑আম জনতা পার্টি” নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। কাছাকাছি নামের অন্য একটি দল আপত্তি তোলার পর পার্টির নাম পরিবর্তন করে “বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি” করা হয়।

ইসির তরফে ৩০ সেপ্টেম্বর দলটির নিবন্ধন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত জানানো হলেও, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আপত্তি পাওয়ার পর পুনঃতদন্তের মাধ্যমে ঐ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। পুনঃতদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে পার্টির সংবিধানিক শর্তাবলী ও নামের সাদৃশ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

নিবন্ধন প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন দলটির সংবিধানিক কাঠামো, সদস্যসংখ্যা এবং নামের অনুরূপতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এছাড়া, পার্টির পূর্বের রূপান্তর ও নাম পরিবর্তন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিপক্ষ দলগুলো, বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দলগুলো, ইসির এই পুনঃতদন্তকে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, পার্টির নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম না থাকলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, আমজনগণ পার্টি এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে এবং বলছে, নিবন্ধন না হলে তারা বৃহৎ জনসাধারণের আন্দোলন গড়ে তুলবে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করতে পারে। দলটি আইনগত পথে চ্যালেঞ্জ করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি পার্টি নিবন্ধন না পায়, তবে নির্বাচনী সময়সূচি দেরি হতে পারে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। বৃহৎ প্রতিবাদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি বাড়তে পারে।

পরবর্তী ধাপে, আমজনগণ পার্টি সম্ভবত উচ্চ আদালতে আবেদন করবে এবং একই সঙ্গে জনমত গড়ে তোলার জন্য আরও প্রতিবাদমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই বলবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments