20 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইডব্লিউএ ইসিকে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

ইডব্লিউএ ইসিকে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ) ৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য দৃশ্যমান ও কঠোর ভূমিকা নিতে আহ্বান জানায়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, সহিংসতা ও নারীর প্রতি হিংসা বাড়ার ঝুঁকি, যা ভোটারদের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ও ইডব্লিউএ’র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মো. শরিফুল আলম, যিনি উপস্থিত সকলকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন। সভায় উপস্থিত বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের সমন্বিত দায়িত্ব স্পষ্ট হয়।

মাঠপর্যায়ের তথ্য উপস্থাপন করেন মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রুমন। তিনি ৩৬টির বেশি জেলায় নথিভুক্ত ২৭৫টি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, নারীর প্রতি সহিংসতা, অবমাননা ও বিভিন্ন ধরনের হিংসার ঘটনা তুলে ধরেন, যা দেশের নির্বাচনী পরিবেশকে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

রুমনের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনাগুলি কেবলমাত্র একক ঘটনার সমষ্টি নয়, বরং সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের হিংসা ও লঙ্ঘন ভোটারদের অংশগ্রহণের ইচ্ছাকে কমিয়ে দিতে পারে এবং ফলস্বরূপ নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তৌফিক এম হক বলেন, যদিও কিছু এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ স্বাভাবিকভাবে চলছে, তবু কিছু স্পষ্ট ঝুঁকির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলিকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে হিংসা ও লঙ্ঘনের প্রবণতা রোধ করা যায়।

ড. তৌফিক আরও সতর্ক করেন যে, ভোটের ফলাফল প্রকাশে দেরি হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটতে পারে এবং সামাজিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। তিনি ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সক্রিয় নাগরিক অংশগ্রহণই স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত ফলাফলের মূল চাবিকাঠি।

অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রফেসর ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল, সাবেক কূটনীতিক আব্দুল মোতালেব সরকার, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমান এবং ইডব্লিউএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা প্রত্যেকেই নির্বাচনী নিরাপত্তা, আইনগত শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।

সমাবেশের সমাপ্তিতে উপস্থিত সকলকে একমত হওয়া হয় যে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা শক্তিশালী করা, হিংসা ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নের মুখে ফেলা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments