বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ বাড়িয়েছে। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার কারণগুলো বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ধারাবাহিকতা রক্ষা করা এবং পরবর্তী শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানো।
বোর্ডের সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ এবং eSIF ফর্ম পূরণ এখন সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অনলাইনে করা যাবে। শিক্ষার্থীর নাম, রোল নম্বর এবং পূর্ববর্তী শিক্ষাগত তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে। ফি পরিশোধের পরই ফর্মটি জমা দেওয়া সম্ভব হবে, ফলে আর কোনো কাগজপত্রের ঝামেলা থাকবে না।
বর্ধিত সময়সীমা রবিবারের বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হয়েছে, এবং তা সকল মাদ্রাসার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। এখন শিক্ষার্থীরা এবং তাদের অভিভাবকরা অতিরিক্ত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অনলাইন পোর্টালে লগইন করে প্রয়োজনীয় তথ্য আপডেট করতে পারবেন। এই সময়সীমা বাড়ানোর মাধ্যমে বোর্ডের লক্ষ্য হল যে কোনো শিক্ষার্থীকে বাদ না পড়তে দেওয়া।
একটি মাদ্রাসা থেকে উদাহরণ দেওয়া যায়, যেখানে দুইজন শিক্ষার্থী প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে রেজিস্ট্রেশন শেষ করতে পারেনি। নতুন সময়সীমার ফলে তারা এখন অতিরিক্ত সময় পেয়ে ফি পরিশোধ করে eSIF ফর্ম সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে তাদের অষ্টম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে অগ্রসর হওয়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলবে।
অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার সুবিধা হল যে কোনো সময়, যেকোনো স্থানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই কাজটি সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করে, ফলে ফি পরিশোধে কোনো ধরণের আর্থিক ঝুঁকি থাকে না। শিক্ষার্থীর তথ্য সুরক্ষিত রাখতে সিস্টেমে এনক্রিপশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ফি এবং eSIF ফর্মের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ না হলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীর নাম, জন্মতারিখ এবং মাদ্রাসার নাম সঠিকভাবে লিখতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে সংশোধন প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়তে পারে।
বর্ধিত সময়সীমা শুধুমাত্র অনলাইন রেজিস্ট্রেশনকে প্রভাবিত করে, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ রেকর্ড আপডেটের জন্য কোনো অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে এখনো তাদের নিজস্ব রেজিস্ট্রেশন রেকর্ডে এই পরিবর্তনটি প্রতিফলিত করতে হবে। ফলে মাদ্রাসা ও বোর্ডের মধ্যে তথ্যের সামঞ্জস্যতা বজায় থাকবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে মানবিক দৃষ্টিকোণও রয়েছে, কারণ কিছু শিক্ষার্থী পরিবারিক সমস্যার কারণে সময়মতো রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। অতিরিক্ত সময় দিয়ে বোর্ড তাদের শিক্ষাগত অধিকার রক্ষা করতে চায়। ফলে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ক্যারিয়ার গঠনে কোনো বাধা না থাকে।
অনলাইন পোর্টালে প্রবেশের জন্য শিক্ষার্থীর আইডি এবং পাসওয়ার্ড প্রয়োজন, যা মাদ্রাসা থেকে প্রদান করা হয়। প্রথমবার লগইন করার সময় নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর দিতে হতে পারে। একবার লগইন সম্পন্ন হলে ফি পরিশোধের লিঙ্ক এবং eSIF ফর্মের ফিল্ডগুলো স্পষ্টভাবে দেখা যাবে।
প্রক্রিয়ার শেষে একটি নিশ্চিতকরণ ইমেইল বা এসএমএস পাঠানো হয়, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়েই রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে জানে। এই নোটিফিকেশন রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ সংরক্ষিত থাকে, যা পরবর্তী কোনো সমস্যার সমাধানে কাজে লাগবে।
শিক্ষার্থীর জন্য একটি ব্যবহারিক টিপস হল রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের আগে ব্যাংক স্টেটমেন্ট চেক করে নিশ্চিত করা যে লেনদেন সফল হয়েছে। এছাড়া ফর্ম পূরণের সময় স্ক্রিনশট নিলে কোনো ত্রুটি ঘটলে দ্রুত সমাধান করা সহজ হয়।
শেষে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজকে সহজতর করেছে। আপনি কি আপনার মাদ্রাসার রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য জানার ইচ্ছা রাখেন? অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে সময়মতো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন।



