মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জাজের কোর্ট আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম এবং তার স্বামী ও পুত্রকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) দায়ের করা পিটিশন রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট তিনজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্ত চলছে। কোর্টের আদেশের মূল উদ্দেশ্য হল তদন্তের সময় তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া রোধ করা।
মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জাজের কোর্টে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। তিনি পিটিশনের ভিত্তিতে উল্লেখ করেন যে, ফারজানা ইসলাম, যিনি মানববিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, তার স্বামী আখতার হোসেন এবং পুত্র প্রতিক তাসদিক হোসেনকে বিদেশে ভ্রমণ থেকে বাধা দেওয়া প্রয়োজন। আদালত এই রকম পদক্ষেপকে ন্যায়সঙ্গত বলে বিবেচনা করেন, যাতে তদন্তের স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম পিটিশন দায়ের করেন। তিনি তদন্তের প্রধান দায়িত্বে আছেন এবং কোর্টে উপস্থিত ছিলেন। পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবার দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের অধীনে রয়েছে এবং তদন্তের সময় তাদের গতি সীমাবদ্ধ করা জরুরি। আদালত এই পিটিশনকে গ্রহণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের পিটিশনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ফারজানা ইসলাম, তার স্বামী আখতার হোসেন এবং পুত্র প্রতিক তাসদিক হোসেন দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় জড়িত। তদন্তের সময় গোপন সূত্র থেকে জানা যায় যে, তিনজনের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাই, তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন জানায়, গোপন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই তিনজনের বিদেশে গমন-প্রস্থান রোধ করা অপরিহার্য। কমিশন যুক্তি দেয় যে, যদি তারা বিদেশে চলে যায়, তবে তদন্তের প্রমাণ সংগ্রহে বাধা সৃষ্টি হবে এবং ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে ফারজানা ইসলাম, আখতার হোসেন এবং প্রতিক তাসদিক হোসেনের পাসপোর্টে সীমাবদ্ধতা আরোপিত হবে এবং কোনো আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়া নিষিদ্ধ হবে। এই নিষেধাজ্ঞা আদালতের আদেশের কার্যকরী তারিখ থেকে প্রযোজ্য হবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে আইনি শাস্তি মুখে পড়তে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশন বর্তমানে এই মামলায় অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে আরও আদালতীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ফারজানা ইসলাম ও তার পরিবারকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে এবং তদন্তের সকল দিকের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে।
এই মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালত অতিরিক্ত শোনানিরিখ নির্ধারণ করতে পারে, যেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনও তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ দায়ের করতে পারে। বর্তমান সময়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে এবং তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে।



