বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল রবিবার প্রভাতে পাকিস্তানে গমন করেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ইসিসি) এর জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে। এই বৈঠকটি পাকিস্তানের ভারত‑পাকিস্তান বিশ্বকাপ ম্যাচ ১৫ ফেব্রুয়ারি বাতিলের প্রেক্ষাপটে ডাকা হয়েছে। ইসিসি সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরা আজকের ভার্চুয়াল সেশনে অংশ নেবে বলে জানানো হয়েছে।
বুলবুল পাকিস্তানে পৌঁছানোর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে তিনি ঢাকা ফিরে আসার প্রস্তুতি নেন। পিসিবি পূর্বে ইসিসি‑কে পক্ষপাতদুষ্ট বলে সমালোচনা করে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারত‑পাকিস্তান ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভূমিকা বিতর্কের কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আসিফ আকবর রবিবার ভোরে বুলবুলের পাকিস্তান যাত্রা নিশ্চিত করেন। তার মন্তব্যে উল্লেখ করা হয় যে, বুলবুলের উপস্থিতি ইসিসি‑এর সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সময়ে, পূর্বে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইসিসি পিসিবি‑এর সঙ্গে গোপন আলোচনার চেষ্টা করছিল এবং ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজাকে এই বিষয়ে যুক্ত করা হয়েছিল।
ইসিসি জরুরি বৈঠকের মূল বিষয় হল পাকিস্তানের বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশ না নেওয়ার কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান। ইসিসি কর্তৃপক্ষের মতে, উভয় দলের নিরাপত্তা ও ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। বৈঠকের ফলাফল অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ম্যাচের সময়সূচি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। বুলবুলের পাকিস্তান সফর এবং পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ উভয়ই ইসিসি‑এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে ইসিসি কীভাবে এই বিরোধ সমাধান করবে তা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।
ইসিসি জরুরি বৈঠকের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা বৈঠকের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাতে প্রস্তুত। বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটিয়ে টুর্নামেন্টের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। বুলবুলের এই সফর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



