নরসিংদি‑৫, নোয়াখালী‑১ এবং ময়মনসিংহ‑৬ আসনে ত্রিশোতী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তিনজন ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সী নারী প্রার্থী দৌড়ে নামেছেন। মেহেরুন নেছা খান হেনা, রেহানা বেগম এবং আখতার সুলতানা প্রত্যেকেই দীর্ঘ সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং এইবার স্বাধীন বা দলীয় প্রার্থী হিসেবে ভোটের জন্য প্রস্তুত। তাদের বয়স, শিক্ষা ও সম্পদের দিক থেকে সমান বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তবে প্রার্থিতার পদ্ধতি ও পেশাগত পটভূমিতে পার্থক্য দেখা যায়।
মেহেরুন নেছা খান হেনা নরসিংদি‑৫ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ১৯৫৪ সালের ১৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকারী তিনি মনোনয়নকালে ৭২ বছর ১১ মাস বয়সী ছিলেন। তার বায়োডেটায় গৃহিণী ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ প্রকাশে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় প্রায় সাড়ে ২৩ লাখ টাকা, নগদে ২৭ লাখ ২৮ হাজার টাকার বেশি, ব্যাংকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি এবং সঞ্চয়পত্রে ৫০ লাখ টাকার সমান সম্পদ রয়েছে। তাছাড়া, আড়াই কোটি টাকার বেশি সেভিংস ডিপোজিট, ৩৫ ভরি স্বর্ণের অলংকার এবং গুলশান এলাকায় ২,৩৭৭ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট তার নামের অধীনে রয়েছে।
মেহেরুনের পরিবারিক পটভূমি রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তার পিতা আবদুল খালেক খান এবং মাতা মকবুলা খান। তিনি চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে বড়। স্বামী ওয়াজেদ আলী খান পন্নী পূর্বে রাষ্ট্রদূত ও ১৯৯০-এর দশকে এরশাদ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, বর্তমানে বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন এবং রাজনীতিতে সক্রিয় নয়। মেহেরুন ২০০৭ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার পদে আছেন।
রেহানা বেগম নোয়াখালী‑১ আসনের স্বাধীন প্রার্থী। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা করেন। তার বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে, স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন এবং সম্পদ দিক থেকে সমৃদ্ধ। রেহানা দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে সক্রিয় ছিলেন, তবে স্বামীর কোনো সরকারী পদ বা সংসদীয় সংযোগের উল্লেখ নেই।
আখতার সুলতানা ময়মনসিংহ‑৬ আসনের আরেকজন প্রার্থী, যিনি শিক্ষক পেশা থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। তিনি ৭০ বছরের বেশি বয়সী, স্নাতক ডিগ্রি ধারী এবং তার আর্থিক অবস্থা উল্লেখযোগ্য। আখতার পূর্বে স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সংগঠনের কাজ করেছেন এবং এখন স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।
প্রচারাভিযানের সময় তিনজন প্রার্থীই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরাসরি সমর্থন আহ্বান করছেন। মেহেরুন নেছা খান হেনা ইতিমধ্যে ১৯টি ইউনিয়নের দরজায় গিয়ে ভোটের আবেদন করেছেন এবং ভোটারদের স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি নিজের প্রস্তাবিত নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করে ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মন্তব্যে দেখা যায়, যদিও প্রার্থীদের বয়স ও সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তবে ভোটারদের কাছে প্রকৃত সেবা ও প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেওয়া হয়েছে। কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, বয়সের সীমা না থাকলেও প্রার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা ভোটারদের কাছে প্রমাণ করতে হবে।
এই তিনজনের প্রার্থীতা নারী প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ত্রিশোতী নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সী নারী প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে, যা নারী অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের এই বয়স্ক প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা ও সম্পদকে কতটা মূল্যায়ন করবে তার ওপর। যদি তারা স্থানীয় সমস্যার সমাধানে কার্যকরী পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেন, তবে বয়সের সীমা অতিক্রম করে ভোট জেতার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, তরুণ ও মধ্যবয়সী প্রার্থীরা তাদের নতুন ধারণা ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রচার কৌশল দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এই প্রতিযোগিতা ভোটারদের জন্য বিস্তৃত বিকল্প তৈরি করবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।
পরবর্তী সপ্তাহে প্রার্থীরা আরো বেশি ইউনিয়ন ও গ্রাম পরিদর্শন করে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ চালিয়ে যাবে। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, সকল প্রার্থীর আর্থিক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সংক্ষেপে, নরসিংদি‑৫, নোয়াখালী‑১ এবং ময়মনসিংহ‑৬ আসনে ত্রিশোতী সংসদ নির্বাচনে তিনজন ৭০‑এর বেশি বয়সী নারী প্রার্থী তাদের অভিজ্ঞতা, সম্পদ ও রাজনৈতিক সংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছেন, এবং এই নির্বাচন নারী প্রতিনিধিত্বের নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে পারে।



