আইসিসি রোববার যুব বিশ্বকাপের সেরা একাদশের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকায় তিনজন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় স্থান পেয়েছেন, আর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল থেকে কোনো নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
সেরা একাদশে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বকারী তিনজনের মধ্যে অধিনায়ক টমাস রু অন্তর্ভুক্ত। রু টুর্নামেন্টে একশত তেইশি রান এবং দুইটি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স দিয়ে দলকে ফাইনালে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ইংল্যান্ডের বেন মেয়েস এবং অলিভার পিকও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, যারা ধারাবাহিক স্কোরিং এবং ফিল্ডিং দক্ষতা দেখিয়েছেন।
টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ী ভারত থেকে দুইজন খেলোয়াড় সেরা একাদশে নামেন। বৈভাব সুরিয়াভানশি ১৭৫ রান করে গড় ৬২.৭১ এবং স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৪৯ নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার হন, পাশাপাশি তিনি ‘প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট’ও অর্জন করেন।
আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল থেকে দুইজন খেলোয়াড় একাদশে স্থান পেয়েছেন। টপ অর্ডারের ফায়সাল খান দুটি সেঞ্চুরি তৈরি করে ৪৩৫ রান সংগ্রহ করেন, যা টুর্নামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। তার পারফরম্যান্সকে সমর্থন করে দলের পেসার নুরিস্তানি ওমারজাইকে ১৪ উইকেট নিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তান থেকে প্রত্যেকটি দল একজন করে খেলোয়াড়কে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করেছে। শ্রীলঙ্কার ভিরান চামুদিথা পাঁচ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি করে ৩১০ রান সংগ্রহ করেন, আর অস্ট্রেলিয়ার অলিভার পিক মাঝারি অবস্থানে সাফল্য দেখিয়েছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি রিস এবং পাকিস্তানের আলি রাজা প্রত্যেকেই একাধিক উইকেট নিয়ে তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাটিং দিক থেকে সর্বোচ্চ স্কোর ১৯৪ রান, যা অধিনায়ক আজিজুল হাকিমের ফিফটি পারফরম্যান্সে অর্জিত। তবে দলের বোলারদের মধ্যে আল ফাহাদ এবং ইকবাল হোসেন আলাদা করে নজর কেড়েছেন; আল ফাহাদ ভারতবিরুদ্ধে পাঁচটি উইকেটসহ মোট ১২ উইকেট নেন, আর ইকবাল হোসেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচটি উইকেটসহ মোট ১১ উইকেট সংগ্রহ করেন।
বৈভাব সুরিয়াভানশি ছাড়াও শ্রীলঙ্কার ভিরান চামুদিথা এবং আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের ফায়সাল খান টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সেঞ্চুরি তৈরি করে স্কোরিং তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। চামুদিথা পাঁচ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি করে ৩১০ রান সংগ্রহ করেন, আর ফায়সাল খান দুটি সেঞ্চুরি এবং মোট ৪৩৫ রান নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার হন।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক টমাস রু টুর্নামেন্টে ৩৩০ রান করেন, যার মধ্যে একটি সেঞ্চুরি এবং দুটি পঞ্চাশ রয়েছে। বেন মেয়েস দুই ফিফটি এবং একটি সেঞ্চুরি মিলিয়ে ৪৪৪ রান সংগ্রহ করে একাদশের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। অলিভার পিক মাঝারি অবস্থানে অবদান রেখে দলকে সমর্থন করেন।
বোলিং দিক থেকে ইংল্যান্ডের পেসার ম্যানি লামসডেন ৭ ম্যাচে সর্বোচ্চ ১৬ উইকেট নিয়ে একাদশে শীর্ষে রয়েছেন। আফগানিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের নুরিস্তানি ওমারজাইকে ১৪ উইকেট নিয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে, আর পাকিস্তান ক্রিকেট দলের আলি রাজা ১৩ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে স্থান পেয়েছেন।
সর্বশেষে, ভারতীয় স্পিন অলরাউন্ডার কানিশ্ক চৌহান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি রিসকে স্পিন আক্রমণ সামলানোর জন্য একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নির্বাচন টুর্নামেন্টের শেষ পর্যায়ে দলগুলোর শক্তি ও পারফরম্যান্সের সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে, এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।



