ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে শুক্রবার সন্ধ্যায় আত্মঘাতী বোমা হামলা সংঘটিত হওয়ায় ৩৬ জন নিহত এবং ১৬০ এর বেশি মানুষ আহত হয়েছে। চীন সরকার ঘটনাটিকে “গভীরভাবে মর্মাহত” বলে নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমর্থন প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এই বিবৃতি রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রেস রিলিজে প্রকাশিত হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ্যে বলেছে, হামলাটি যে কোনো রূপের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর নিন্দা জানায় এবং পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য প্রদান করবে। এই মন্তব্যের সঙ্গে চীন সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরেছে।
হামলাটি শুক্রবার জুমা নামাজের সময় ইসলামাবাদের তারাইলি এলাকায় অবস্থিত ইমামবাড়া কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে ঘটেছে। মসজিদে উপস্থিত মুসলমানদের ওপর এক আত্মঘাতী বিস্ফোরক ছুঁড়ে দেওয়ার পর গুলিবর্ষণ শুরু হয়, ফলে স্থানটি রক্তে ভেজা অবস্থায় রয়ে যায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এক পুলিশ কর্মকর্তা সহ ৩৫ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, আর ১৬০ এর বেশি মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হামলাকারী মসজিদ প্রবেশ পথে নিরাপত্তা কর্মীদের দ্বারা থামানো হওয়ার পরই গুলিবর্ষণ ও বিস্ফোরণ চালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গুলিবর্ষণ শুরু হওয়ার ঠিক আগে আত্মঘাতী বিস্ফোরকটি মসজিদ প্রাঙ্গণে ফেলা হয়, যা দ্রুত বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি করে।
প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, আত্মঘাতী হামলাকারী পূর্বে আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা তার বিচ্ছিন্ন মাথা থেকে ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, টেলিগ্রাম অ্যাপে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। আইএসের এই দায় স্বীকারের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের নজরদারি সংস্থাগুলি সতর্কতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি উল্লেখ করেছেন, হামলাকারী আফগানিস্তানের নাগরিক এবং আইএসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, হামলায় সহায়তা করা চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে পরিকল্পনাকারীও অন্তর্ভুক্ত।
গ্রেপ্তারকৃত সন্দেহভাজনদের ওপর কেপি (খাইবার পাখতুনখওয়া) প্রদেশে রাতভর অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী উপ-পরিদর্শক নিহত এবং কয়েকজনই আহত হয়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, চীন সরকারের এই দ্রুত নিন্দা ও সমর্থন প্রকাশ পাকিস্তানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চীনের কূটনৈতিক স্বার্থের অংশ। চীন-পাকিস্তান কৌশলগত অংশীদারিত্বের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা ও সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেওয়া হয়েছে।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা পরিবেশের প্রেক্ষাপটে, এই হামলা পাকিস্তানের উত্তরে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের তীব্রতা বাড়াতে পারে। চীন সরকার যে সমর্থন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা ভবিষ্যতে সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য শেয়ারিং এবং অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে।
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার তদন্তকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি সীমানা নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে, এবং চীন সরকারের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।



